Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

সেনা-আধাসেনায় বিপুল শূন্যপদ, অগ্নিবীর নিয়োগে জোর মোদি সরকারের

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর ঘৃণ্য প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে লস্কর জঙ্গিরা। তারপরে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, আমজনতা আদৌ সুরক্ষিত তো?

সেনা-আধাসেনায় বিপুল শূন্যপদ, অগ্নিবীর নিয়োগে জোর মোদি সরকারের
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ ১৫:০৪

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর ঘৃণ্য প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে লস্কর জঙ্গিরা। তারপরে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, আমজনতা আদৌ সুরক্ষিত তো? এক্ষেত্রে উদ্বেগ বৃদ্ধি করছে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক পরিসংখ্যান। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট থেকে আরটিআইয়ের জবাব—সরকারি খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে, শুধু সামরিক বাহিনীতে শূন্যপদের সংখ্যা লক্ষাধিক। এর সঙ্গে আধা সামরিক বাহিনী যুক্ত করা হলে, দেশের মোট কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান ও অফিসারের সংখ্যা অনুমোদিত পদের থেকে প্রায় ২ লক্ষ কম। বিগত কয়েক বছর ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অগ্নিপথ প্রকল্প অনুযায়ী অগ্নিবীর অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়ায় যতটা অগ্রাধিকার দিয়েছে, ঠিক ততটাই কমেছে নিয়মিত স্থায়ী সামরিক বাহিনীর নিয়োগ। সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, সেনাবাহিনীর মোট সংখ্যা ১২ লক্ষ ৪৮ হাজার। কিন্তু অনুমোদিত পদের সংখ্যা আরও এক লক্ষেরও বেশি। জুনিয়র কমিশনড অফিসার এবং নন কমিশনড অফিসার মিলিয়ে ৯২ হাজার ৪১০ পদ শূন্য। অফিসার ক্যাডারের অনুমোদিত পদ ৫০ হাজারের বেশি। সেখানে অফিসার ক্যাডারের সংখ্যা বর্তমানে ৪২ হাজার। 

Advertisement

অন্যদিকে, ২০২৩ সালে সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছিল আধা সামরিক বাহিনীর সংখ্যা অনুমোদিত পদের তুলনায় ৮৩ হাজার কম। উল্লেখ্য, কোভিডকালে প্রায় দু’বছর ধরে একদিকে যেমন দেড় লক্ষ জওয়ান ও অফিসারের অবসর হয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে নিয়োগ হয়নি। সেই ফারাক পরবর্তী চার বছরেও পূর্ণ হচ্ছে না। বরং স্থায়ী চাকরির বদলে হঠাৎ ২০২২ সাল থেকে অগ্নিবীর নিয়োগেই সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হ঩য়েছে। লাদাখ, কাশ্মীর সহ পাকিস্তান ও চীন সীমান্তে বা সিয়াচেন তথা আকসাই চীন এলাকায় মোতায়েন করার জন্য  যাঁদের বাছাই করা হয়, তাঁরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এবং উচ্চ মাত্রার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ছ’মাসের প্রশিক্ষণ দিয়েই অগ্নিবীরদের এসব স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে মোতায়েন করা সম্ভব নয়। অথচ তিন বাহিনীতে জুনিয়র ও নন কমিশনড অফিসার এবং জওয়ানের সংখ্যা কমেই চলেছে। এখানেই শেষ নয়। মঙ্গলবার কাশ্মীরের ঘটনার প্রেক্ষিতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক একটি আরটিআইয়ের তথ্য। মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা চন্দ্রশেখর গৌড়ের ওই আরটিআইয়ের জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, ডিফেন্স সিভিলিয়নে মোট পদের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৩৯। অথচ কর্মী আছেন ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬৫০ পদে। ওই আরটিআই জবাব অনুসারে ডিফেন্স সিভিলিয়নে শূন্যপদের সংখ্যা মোট ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৮৯। ১ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই আরটিআইয়ের জবাবে আরও জানা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে শূন্যপদের সংখ্যাও প্রায় দেড় লক্ষ ছুঁইছুঁই।

সম্পর্কিত সংবাদ