


পরামর্শে রুবি জেনারেল হাসপাতালের চিফ ডায়েটিশিয়ান স্বাগতা মুখোপাধ্যায়।
‘দারুণ অগ্নিবাণে রে / হৃদয় তৃষায় হানে রে॥
রজনী নিদ্রাহীন, দীর্ঘ দগ্ধ দিন,
আরাম নাহি যে জানে রে॥’
সামনেই গ্রীষ্মকাল। কদিন পরেই জলশূন্যতা, হিটস্ট্রোকের হুমকি দিতে শুরু করবে পরিবেশ! জিতবেন তাঁরাই যাঁরা খর তপ্ত প্রহরেও শরীর ও মাথা রাখতে পারবেন ঠান্ডা! কীভাবে করবেন এই অসাধ্যসাধন? আসুন জানি—
কেমন হবে ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ-ডিনার
গরমে সুস্থ থাকতে সারাদিনের খাবার হওয়া উচিত হালকা ও সহজপাচ্য। সকালে প্রাতঃরাশে ওটস ও টকদইয়ের মিশ্রণ খেতে পারেন, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখবে। দই-এর প্রোবায়োটিক বাড়াবে হজম ক্ষমতা। একইসঙ্গে প্রোটিনের জন্য ডিমের সাদা অংশ বা ছানা রাখা যেতে পারে। সকালে একটি ফল খাওয়া জরুরি, বিশেষ করে লেবু জাতীয় ফল বা পাকা পেঁপে, যা থেকে মিলবে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। দুপুরের খাবারের ক্ষেত্রে ভাতের সাথে পাতলা ডাল এবং একদম হালকা মশলা দেওয়া সব্জি রাখুন। মাছের ঝোল খেলেও তা যেন খুব পাতলা হয়। লাঞ্চে এক বাটি ঘরে পাতা টক দই খাওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ দই হজমে সাহায্য করে। বিকেলের জলখাবারে তেল-মশলাযুক্ত চাউমিন বা ফাস্টফুড এড়িয়ে মুড়ি বা চিঁড়ে ভাজা খান। সাথে শসা, টম্যাটো কুচি যোগ করতে পারেন।
সবশেষে রাতের খাবার হবে সবথেকে হালকা। যারা রুটি খান তারা ১-২টি রুটি বা যারা ভাত পছন্দ করেন তারা অল্প ভাতের সঙ্গে সব্জি ও মাছের ঝোল খেতে পারেন। মনে রাখবেন, সুস্থ থাকতে বাড়ির তৈরি সাধারণ খাবারই এই সময়ের জন্য সেরা।
জল শরীর!
প্রবল গ্রীষ্মে শরীরে জলের অভাব মেটাতে জল পান অবশ্যই করবেন। সঙ্গে পান করুন আরও কিছু খাদ্য ও পানীয়। ডাবের জল প্রতিদিন পান করা যায়। ডাব প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের সেরা উৎস। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা আছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই খাবেন। এছাড়া পান্তা ভাতও উৎকৃষ্ট প্রোবায়োটিকযুক্ত খাদ্য যা শরীর ঠান্ডা রাখে এবং হজম ক্ষমতা বাড়ায়। আবার ঘুরিয়েফিরিয়ে খাওয়া যায় বেলের পানা, পুদিনা পাতার শরবত বা আখের রস (চিনি ছাড়া)। শরীরে জলশূন্যতা রোধে শশা, তরমুজ ও লাউ-এর মতো সহজপাচ্য সব্জি বেশি করে খান।
সাবধানতা
রাস্তাঘাটে বেরলে সঙ্গে ওআরএস বা নুন-চিনি জল রাখা ভালো। এছাড়া তরমুজ, পাতিলেবু, কতিলা সরবত, মৌরি-জিরা ভেজানো জল ইত্যাদি চিনি ছাড়া সঙ্গে রাখা যেতে পারে।
এড়িয়ে চলুন
রাস্তার বিক্রি হচ্ছে এমন খোলা কাটা ফল বা অস্বাস্থ্যকর পানীয় এই সময় ডায়ারিয়ার প্রধান কারণ।
বাদ দিন কফি। দিনে এক থেকে দুই কাপ লাল চা খেতে পারেন বড়জোর। প্রচণ্ড রোদ থেকে এসেই বরফ ঠান্ডা জল খাবেন না। কুঁজোর জল খেতে পারেন।
শেষের কথা
গরমে সুস্থ থাকতে মনে রাখুন তিন মন্ত্র— ১) দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন। ২) ডিনার ও পরের দিনের ব্রেকফাস্ট-এর মধ্যে ১২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন। ৩) রাতের খাবারের আধ ঘণ্টা পর কিছুক্ষণ পায়চারি করুন, এতে হজম ও ঘুম দুই-ই ভালো হবে।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক