


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে উলুবেড়িয়া থানার বাগান্ডা বীশ্বেশ্বরপুর মোল্লাপাড়ায়। মৃতার নাম রাজিয়া খাতুন (২৬)। গৃহবধূর বাবা মোস্তফা আলির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতার স্বামী শেখ শামসুলকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। কীভাবে গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পেলেই স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।
জানা গিয়েছে, বছর আটেক আগে উলুবেড়িয়া পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোটালঘাটা কামারপুরের বাসিন্দা শেখ মোস্তফা আলির মেয়ে রাজিয়ার সঙ্গে বাগান্ডা বীশ্বেশ্বরপুর মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা পেশায় জরি শিল্পী শেখ শামসুলের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স আট বছর, অন্যজনের ছ’বছর। মোস্তফা আলির অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ আমার সঙ্গে রাজিয়ার ফোনে কথা হয়। তারপর সে আমার স্ত্রী ও আরেক মেয়ের সঙ্গে কথা বলে। তার ঘণ্টাখানেক বাদে জামাই শামসুল ফোন করে জানায়, রাজিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাঁকে উলুবেড়িয়ার হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। এই খবর পাওয়ামাত্র আমি এবং প্রতিবেশী কয়েকজন হাসপাতালে ছুটে যাই। কিন্তু সেখানে খোঁজ করলেও কেউ মেয়ের হদিশ দিতে পারেননি। পরে জামাইকে ফের ফোন করলে শামসুল জানায়, রাজিয়ার মৃত্যু হয়েছে। মোস্তফা আলির অভিযোগ, মেয়ের সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ায় আমি নিশ্চিত যে তাকে খুন করা হয়েছে। শ্বশুরবাড়িতে তার উপর যে অত্যাচার হত, সেকথা গোপন করেনি রাজিয়া। প্রায়ই ফোনে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাত। বলত, ওরা আমাকে মারধর করে। মোস্তফা আলি বলেন, ওদের সংসার যাতে টিকে থাকে, তারজন্য আমি গিয়ে মেয়ে-জামাইয়ের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মিটিয়ে আসতাম। মেয়েকে খুনের দায়ে শুধু জামাই নয়, ওর শাশুড়িকেও অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে পুলিশকে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।