


তেহরান: মাঝে মাত্র দু’দিন। ২২ এপ্রিলই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষে হচ্ছে। মেয়াদ শেষে ফের কী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ফিরবে পশ্চিম এশিয়া? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আন্তর্জাতিক দুনিয়া। এই অবস্থায় ইরান জানিয়ে দিল, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি এসেছে ঠিকই। তবে চুক্তি স্বাক্ষর করতে এখন বহু দূর যেতে হবে। ইরানের হয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন সেদেশের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। সেই ঘালিবাফ শনিবার বলেন, ‘আলোচনা চললেও মত পার্থক্যের বিষয়গুলি নিয়ে ঐকমত্য হচ্ছে না। এখনই দূরত্ব কমার সম্ভাবনা কম। মতের মিল হলেই চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শত্রুদের উপর কোনো আঘাত করিনি। ওরা এখনও অস্ত্র এবং অর্থের জোরে বলীয়ান। তবে আমাদের চোখে ওরা কৌশলগতভাবে পরাজিত হয়েছে।’ এই পরিস্থিতিতে সকলের নজর হরমুজ প্রণালী নিয়ে দু’পক্ষের অবস্থানে। ঘালিবাফ বলেন, ইরানের বন্দরগুলির উপর আমেরিকা এখনও অবরোধ জারি রেখেছে। আমেরিকার এই বিশ্বাসভঙ্গের কারণে এবার আমরাও হরমুজ বন্ধ করে দিয়েছি। ঘালিবাফের কথার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌসের পক্ষ থেকেও। তাদের সাফ কথা, যতিদিন না আমেরিকা তাদের অবরোধ তুলছে। ইরানও হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখবে।
এতকিছুর পরেও আশার আলো দেখাচ্ছে ইরান। সেদেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘ইরান শান্তিপ্রিয় দেশ। আমরা যুদ্ধ চাইনি। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের আক্রমণের থেকে নিজেদের বাঁচাতেই আমরা প্রতি আক্রমণে যেতে বাধ্য হয়েছি। মানুষ যেভাবে আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া দেখায়, আমরাও সেভাবে আত্মরক্ষা করেছি।’ একই সঙ্গে তিনি ইরানের পরমাণু পরীক্ষা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানেরও সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ‘আমেরিকা কেন পরমাণু শক্তিধর হওয়া থেকে ইরানকে বিরত রাখতে চায়, তার কোনো যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা তারা দেয়নি।’