সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকমহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ ২০২১ ও ২০২৩ সালে রাজ্যে আনুমানিক এইচআইভি পজিটিভ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ হাজার। সেটা ২০২৫ সালে প্রায় ৭৮ হাজারের বেশি হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার জানুয়ারি মাসের যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। দু’বছরে প্রায় আট হাজার মানুষের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস থাকার সম্ভাবনার বিষয়টি বেশ গুরুতর বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুরক্ষিত যৌন সঙ্গম, ড্রাগ নিতে একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করার প্রবণতা ছিলই, এর পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, সমকামী সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া তরুণ তরুণীদের সংখ্যাও বাড়ছে। এসবের কারণে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। এতদিন দু’বছর অন্তর স্রেফ রাজ্যের সম্ভাব্য এইচআইভি পজিটিভ কত, সেই সংখ্যা প্রকাশ করত কেন্দ্র। এবার প্রথম জেলাওয়াড়ি বিন্যাস দিয়েছে তারা। তাতে দেখা যাচ্ছে, কলকাতায় প্রায় ১২ হাজার মানুষের মধ্যে এই জীবাণু থাকার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনায় এই সংখ্যা যথেষ্ট বেশি বলে জানা গিয়েছে। সম্ভাবনাময়দের মধ্যেও কার শরীরে নিশ্চিতভাবে এই ভাইরাস আছে, তার পরীক্ষাও করা হয়েছে। তাতে বেশিরভাগেরই রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। যদিও তাঁরা শারীরিকভাবে ভালো আছেন। এইচআইভি ঠেকাতে বিভিন্ন সচেতনামূলক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকরা। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে সতর্ক করতে প্রচারও করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কারণ এই শ্রেণিকে নিয়ে বাড়তি মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা নতুন কিছু করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনছেন। তৃণমূলস্তরে পাঠ্য বইয়ে এইচআইভি নিয়ে সতর্ক করার পাঠ দেওয়া হয়। বিভিন্ন এলাকায় কান পাতলে শোনা যায়, এই রোগ থেকে রক্ষা করার টোটকা। তারপরও কেন সমাজের একটা অংশের মধ্যে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি, সেটাই আশ্চর্যের। দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য আধিকারিক মুক্তিসাধান মাইতি বলেন, পরিসংখ্যান তো উদ্বেগের। সচেতনামূলক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। আশা করি মানুষ বুঝবে।



