নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: জেলবন্দি এক চাকরিহারা শিক্ষককে জেলে বসেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নয়া নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিল হাইকোর্ট। জেলে থাকাকালীনই পরীক্ষায় বসতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন আবদুস সাত্তার নামে ওই চাকরিহারা শিক্ষক। কিন্তু অ্যাডমিট কার্ড পাওয়ার পরও কারা কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও সাড়া না মেলায় আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে ছিল সেই মামলার শুনানি। চাকরিহারা ওই শিক্ষকের আবেদনে সাড়া দিয়ে বিচারপতি সিনহা তাঁর নির্দেশে জানিয়েছেন, মামলাকারী যেহেতু ‘দাগি’ বা ‘অযোগ্য’ নন, অর্থাৎ তাঁর বিরুদ্ধে যেহেতু ওএমআর জালিয়াতি বা র্যাঙ্ক জাম্পের মতো অভিযোগ নেই, তাই বন্দি অবস্থায় জেলে বসেই মামলাকারীকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এসএসসি এবং রাজ্য কারাদপ্তরকে।
এসএসসি’র ওই চাকরিহারা শিক্ষককে, এক পকসো মামলায় ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বক্তব্য, তিনি যোগ্য শিক্ষক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তিনি পরীক্ষায় বসতে পারবেন। এসএসসি অনুমতি দিচ্ছে না। আদালত পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিক। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ দুটি নিয়োগ পরীক্ষাতেই বসতে চান তিনি।
মামলার বয়ান সূত্রে জানা গিয়েছে, আবদুস ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করে মাধ্যমিক স্তরে ইতিহাস শিক্ষকের চাকরি পান। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিয়োগ বাতিল হওয়ায় অন্যদের মতো আবদুসেরও চাকরি যায়। তবে তিনি ‘দাগি’ তালিকাভুক্ত না-হওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালে একটি পকসো মামলায় নাম জড়ায় আবদুসের। তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর আইনজীবীর অভিযোগ, এলাকার শাসক দলের এক নেতার মদতেই ভুয়ো পকসো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে ওই শিক্ষককে। কিছুদিন আগে জামিনের আবেদন করেন তিনি। কিন্তু তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর হয়নি। নতুন এসএসসি পরীক্ষার সেই আবেদন জানিয়ে অ্যাডমিট কার্ডও পেয়েছেন আবদুস। সেই পরীক্ষায় বসার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানালেও তা মঞ্জুর হয়নি। জানিয়েছেন আবদুসের আইনজীবীরা। তাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।