নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাপপ্রবাহের ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গসহ সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় সরকার। তাপপ্রবাহের মোকাবিলা করতে কী ধরনের আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে, তা জানিয়ে সব রাজ্যের মুখ্যসচিব ও কেন্দ্রশাসিত এলাকার প্রশাসকদের চিঠি পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সচিব পুণ্যসলিলা শ্রীবাস্তব। চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি মোকাবিলা সংক্রান্ত একগুচ্ছ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এই চিঠিতে। মার্চ মাস থেকে নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে রাজ্যগুলিতে। তাপপ্রবাহে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগী সংক্রান্ত তথ্য ইন্ট্রিগেটেড হেলথ ইনফরমেশন পোর্টালে নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর আগামী মে মাস পর্যন্ত এবার দেশে বেশি মাত্রার গরম পড়ার যে সতর্কবার্তা ইতিমধ্যে জারি করেছে সেটাও স্বাস্থ্য সচিবের চিঠির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর বিভিন্ন জায়গায় তাপপ্রবাহের যে আগাম সতর্কবার্তা জারি করে থাকে, সেদিকে নজর রাখতে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, রাজ্যে তাপপ্রবাহ ও বেশি গরম পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই সতর্কবার্তা রাজ্য সরকারকে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলাসহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রাখে আবহাওয়া দপ্তর। বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও রাজ্য সরকারকে সতর্ক করা হয়। আপাতত দক্ষিণবঙ্গে চড়া গরম থাকলেও তাপপ্রবাহের কোনও সতর্কবার্তা দেয়নি আবহাওয়া দপ্তর। তবে এই দফায় পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এদিনই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে ৩৫ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। আপাতত পূর্ব ভারতের মধ্যে ওড়িশার কিছু অংশে তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। বিহার, ঝাড়খণ্ডেও তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা এখনও দেওয়া হয়নি। দক্ষিণবঙ্গে গরম হাওয়া মূলত বিহার-ঝাড়খণ্ডের দিক থেকে প্রবাহিত হয়। ওইসব জায়গায় তাপপ্রবাহ হলে দক্ষিণবঙ্গেও তার প্রভাব পড়ে। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুকনো গরম হাওয়া আসার জন্য পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে কার্যত তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি থাকবে। আপাতত দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। শুধু উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।
তাপপ্রবাহ জনিত অসুস্থতা মোকাবিলা করার জন্য ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল যে গাইডলাইন দিয়েছে, তা জেলাগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরমার্শ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় চিঠিতে। গাইডলাইন যুক্ত হয়েছে ওই চিঠিতেই। তাপপ্রবাহ জনিত অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও উপকরণ মজুত রাখা, এই ধরনের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কী ধরনের হবে, ন্যাশনাল সেন্টারের গাইডলাইনে বলা আছে সেটাই।