Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তাপপ্রবাহের রক্তচক্ষু, প্রথম তিনে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা

মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া লেগে থাকায় গরমের দাপট কমেছে।

তাপপ্রবাহের রক্তচক্ষু, প্রথম তিনে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি বছরে নাকি এসি মেশিনের বিক্রি সেভাবে হচ্ছে না! কারণ, এক-দু’দিন বাদ দিলে সেই রকম তীব্র গরম এবার এখনও পর্যন্ত অনুভূত হয়নি। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া লেগে থাকায় গরমের দাপট কমেছে। তবে এটুকুতেই স্বস্তির কারণ নেই! একটি বেসরকারি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনার উপর রয়েছে তাপপ্রবাহের রক্তচক্ষু! ‘হিট রিস্ক ইনডেক্স’ অর্থাৎ তাপের জন্য ঝুঁকির সূচকে প্রথম তিনে রয়েছে যথাক্রমে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা। 

Advertisement

ওই বেসরকারি সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, কলকাতা ও এই দুই জেলার ‘হিট রিস্ক ইনডেক্স’ ‘হাই’ (বেশি)। ওই তালিকায় এরপর রয়েছে পুরুলিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া। তারপরই রয়েছে কলকাতা সংলগ্ন আরেক জেলা হুগলি। গঙ্গাপাড়ের এই জেলার সূচক ‘মডারেট’ (মাঝারি)। তারপর রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও পশ্চিম বর্ধমান। তালিকার দশম স্থানে রয়েছে কলকাতা লাগোয়া আরেক জেলা হাওড়া। এই জেলাও তাপের জন্য ঝুঁকির নিরিখে ‘মডারেট’ তালিকাভুক্ত হয়েছে। সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রবল তাপপ্রবাহের খাঁড়া মূলত দক্ষিণবঙ্গের উপরেই রয়েছে। এই অঞ্চলের জ্বালাপোড়া গরমের হাত থেকে দিনকয়েক রেহাই পেতে অনেকে এই সময় দার্জিলিং, কালিম্পং, ডুয়ার্সের দিকে পাড়ি জমান। সেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি নিয়ে কী জানাচ্ছে সমীক্ষা? ২৩টি জেলার মধ্যে দার্জিলিং ও কালিম্পং রয়েছে যথাক্রমে ১৯ ও ২০ নম্বর স্থানে। এখানে তাপের জন্য ঝুঁকির সূচক ‘লো’ (কম)। ‘খুব কম’-এর তালিকায় রয়েছে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার। তবে শুধু বাংলার জেলগিুলিতেই এমন অবস্থা, তা নয়। রিপোর্ট বলছে, দেশের ৫৭ শতাংশ জেলাই তাপপ্রবাহের নিরিখে ‘বেশি’ কিংবা ‘খুব বেশি’ অংশে রয়েছে। গোটা দেশের ৭৬ শতাংশ মানুষ এই তাপপ্রবাহ পরিস্থিতির সরাসরি ভুক্তভোগী বলে দাবি করা হয়েছে সমীক্ষায়। তাহলে বাঁচার উপায় কী? পরিবেশ বিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্র বা কুলিং সেন্টার চালু করতে হবে, যেখানে মানুষ বিশ্রাম নিতে পারেন। পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে হিট অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। শহরাঞ্চলে সবুজ পরিসর বাড়ানো, ছাদের উপর সবুজায়ন করা দরকার। এই সমস্যাকে এখন আর শুধু আবহাওয়ার সমস্যা না ভেবে জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে।’ গরমে রাতের অস্বস্তির বিষয়টিও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। অর্থাৎ, জলবায়ু পরিবর্তনের ফাঁদে পড়ে ‘হিট স্ট্রেস’ আর আগামীর আশঙ্কা নয়, ঘোর বাস্তব!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ