শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার শফিক খান খুনে অভিযুক্ত হারুন গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৬২ হাজার টাকা দিয়ে মুঙ্গের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ কিনেছিল। তার সঙ্গী রাফাকাত ওরফে রোহিত তার পরিচিত অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এগুলি কিনে নিয়ে এসেছিল। শফিককে সবক শেখাতেই এই আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিল আফগান যুবক। ধৃত হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে মধ্য কলকাতার এক সময়ের ডন খুনের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত গব্বর ওরফে রশিদের সঙ্গে হারুনের যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। এই নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর চলছে। শফিক খুনের তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জেনেছেন, শিবপুর এলাকায় পারভেজ নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে হারুনের বন্ধুত্ব রয়েছে। শফিকও ওই ব্যবসায়ীর কাছে গিয়েছিল। ২০১৯ সালে পারভেজের এক বন্ধুর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেয় শফিক। সেই টাকা কিছুতেই শোধ দিচ্ছিল না সে। এই নিয়ে ঝগড়াও হয় দু’জনের। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় হারুন পারভেজের কাছে যায়। সেখানে হাজির ছিল সেই বন্ধুও। শফিক এখনও তাকে টাকা শোধ করেনি, একথা জানার পর হারুনের কথামতো পারভেজ ফোন করে শফিককে। তখন হারুনের সঙ্গেও কথা হয় তার।
অভিযুক্ত তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছে, সে কেন ওই টাকার ব্যাপারে মাথা গলাচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে ফোনেই হুমকি দিয়েছিল শফিক। এ নিয়ে তখন বিস্তর ঝামেলাও হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে হারুনকে খতম করতে শফিক দেহরক্ষী পারভেজকে নিয়ে তার বাড়ির সামনে যায়। হারুনকে না পেয়ে সে ফিরে আসে। হারুন ততক্ষণে জেনে গিয়েছে যে, তাকে খতমের চেষ্টা চলছে। তাই দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে শফিককে কথা বলার নাম করে ডেকে পাঠায়। দু’জনের দেহরক্ষী ছিল। তদন্তকারীদের হারুন জানিয়েছে, কথা বলার ফাঁকে রোহিত খেয়াল করে, পারভেজ তার দিকে পিস্তল তাক করছে। বস গুলি খেতে পারে, এই আশঙ্কা করেই রোহিত আগেভাগেই গুলি চালিয়ে দেয় শফিককে। পরিস্থিতি বিগড়ে যাওয়ায় হারুন গুলি চালালে প্রথমটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্বিতীয়টি শফিকের বুকে লাগে।
হারুন তদন্তকারীদের জানিয়েছে, ২০১৮ সালে শফিক ও সে দুষ্কৃতী দলে এক গোষ্ঠীতেই ছিল। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ আনে শফিক। খুনের চেষ্টার অভিযোগে হারুন গ্রেপ্তার হয়। বন্দি থাকে আলিপুর জেলে। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় বান্টি খুনে অভিযুক্ত গব্বরের সঙ্গে। সেখানে অপরাধ জগতে পাকাপাকিভাবে হাতেখড়ি হয় হারুনের। জেল থেকে বেরিয়ে অস্ত্র ব্যবসা ও তোলাবাজি শুরু করে এই আফগান যুবক। পিলখানায় গব্বরের যে শাগরেদরা রয়েছে, তাদের নিয়ে আলাদা দল গড়ে অবৈধ নির্মাণ থেকে তোলাবাজির কাজে নামে সে।
শফিকের জন্যই তাকে জেল খাটতে হয়েছে, ফলে আক্রোশ চরমে ওঠে। এরমাঝে একে অপরকে খতম করার প্ল্যানও করে। সেই কারণেই ফেব্রুয়ারি মাসে ৬২ হাজার টাকা ৭.৬২ পিস্তল ও ১০টি গুলি কিনেছিল মুঙ্গের থেকে। খুনের পর হারুন ও রোহিত জোড়াসাঁকোয় যায়। পরে ধর্মতলা হয়ে মেটিয়াবুরুজে গিয়েছিল। টাকা না থাকায় দুপুরে জোড়াঁসাকো এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি টাকা না দেওয়ায় নিউ মার্কেটে গব্বরের এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করে। তিনি তাকে টাকার সঙ্গে বিহার শরিফে তাজের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।