


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই কোথাও উৎসবের শুরু, কোথাও ক্ষোভের পারদ ঊর্ধ্বমুখী। প্রার্থীর বদল চেয়ে চলছে প্রকাশ্য বিরোধ। বিজেপি আংশিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, তৃণমূল ঘোষণা করেছে পূর্ণাঙ্গ তালিকা। দুই শিবিরেই প্রার্থী তালিকা ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
নদীয়ার হরিণঘাটা বিধানসভার প্রার্থী নিয়ে অখুশি বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। তাঁরা কবিয়াল অসীম সরকারের বিরোধিতা শুরু করেছেন। বুধবার হরিণঘাটা ব্লকের কাষ্ঠডাঙায় বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি কর্মী সমর্থকদের একাংশ। সেখানে ফের প্রার্থী হয়েছেন অসীম সরকার। বর্তমানে তিনি ওই কেন্দ্রের বিধায়ক। বিজেপি নেতা অর্জুন সরকার বলেন, অসীম সরকার দুর্নীতি করেছেন। এতে সংগঠন নষ্ট হচ্ছে। যদিও অসীমবাবুর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি চঞ্চল দেবনাথ বলেন, এটা ওদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তবে উনি পাঁচবছর কোনো কাজ করেননি।
প্রার্থী ঘোষণার দু’দিন পরও উত্তাল উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা। মঙ্গলবার ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের পর বুধবার সকালে দত্তপুকুর-নীলগঞ্জ রোডে ফের বিক্ষোভে নামলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধের জেরে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
এবার আমডাঙা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করা হয়েছে পীরজাদা কাশেম সিদ্দিকিকে। বাদ পড়েছেন টানা তিনবারের বিধায়ক রফিকুর রহমান। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বুধবার দত্তপুকুর থানা সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হন রফিকুর রহমান, তাঁর ভাই তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান এবং একাধিক পঞ্চায়েত প্রধান-উপপ্রধান। সেখান থেকে দাবি ওঠে— ‘ভূমিপুত্র’ রফিকুরকে ফের প্রার্থী করতে হবে। দাবি না মানলে ইস্তফার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয়স্তরের নেতৃত্বের একাংশ। রফিকুর রহমান বলেন, আমি দলের প্রতীকের পক্ষে, কাশেম সিদ্দিকির পক্ষে নই।
মঙ্গলবারের পর বুধবার সকালেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লার বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ দেখান তাঁর অনুগামীরা। ক্যানিং পূর্ব থেকে যাতে শওকত প্রার্থী হন, সেই দাবি নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-অবরোধ। গোসাবায় তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে বিদায়ী বিধায়ক সুব্রত মণ্ডলের নাম ঘোষণা হতেই অশান্তি শুরু হয়েছে। বুধবার বিধানসভার একাধিক পঞ্চায়েত এলাকায় বিধায়ক ও তাঁর বিপক্ষ গোষ্ঠীর ভিতর ব্যাপক মারামারি হয়েছে।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর সংঘর্ষে জড়াল তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে মিনাখাঁর ধুতুরদহে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মিনাখাঁর বিধায়ক ঊষারানি মণ্ডলের নাম ঘোষণা হওয়ার পর ক্ষেপে ওঠে তৃণমূলের অপরগোষ্ঠীর খালেক মোল্লার লোকেরা। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থেকে হাতাহাতি ও মারধর শুরু হয়। আহত হন ৬ জন তৃণমূল কর্মী। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে মিনাখাঁর বিশাল পুলিশবাহিনী। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উভয়পক্ষ থানায় অভিযোগ জানিয়েছে।
হাওড়ার উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা হলেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত তাঁকে ময়দানে দেখা যায়নি। স্বভাবতই কিছুটা হলেও হতাশ কর্মী-সমর্থকরা। জোর কদমে প্রচার এখনও শুরু করা যায়নি। সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছে ঋতব্রত বলেন, নাম ঘোষণার পর উলুবেড়িয়ায় আসা সম্ভব হয়নি। তবে এখানকার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হয়েছে। উলুবেড়িয়ায় থাকার জন্য বাড়ি খুঁজছি।