


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাগুজে কোম্পানি খুলে জাল ইনভয়েস তৈরির চক্রের এক পান্ডাকে গ্রেপ্তার করলেন হলদিয়া কমিশনারেটের সেন্ট্রাল গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্সের অফিসাররা। জয়দেব মণ্ডল নামে ওই অভিযুক্তকে সোমবার নোটিস দিয়ে ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন তাঁরা। কিন্তু জয়দেববাবুর জবাব সন্তোষজনক না-হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় ধৃত ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে নকল ইনভয়েস বিক্রি করতেন। তাঁদের কাছে ভুয়ো ইনভয়েস কিনে বিভিন্ন কোম্পানি সরকারের কাছে জমা করে ৮ কোটি টাকার বেশি ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট তুলে নিয়েছেন।
হলদিয়া কমিশনারেটের জিএসটি দপ্তর সূত্রে খবর, বিভিন্ন কোম্পানির লেনদেনের উপর তারা নজর রাখছিল। আইটিসি রিটার্নের জন্য কয়েকটি কোম্পানির জমা পড়া ইনভয়েস বিল নিয়ে সন্দেহ হয় অফিসারদের। জানা যায়, এই কোম্পানিগুলি খোলা হয়েছে খড়্গপুরের বিভিন্ন জায়গায়। জিএসটিএন নম্বর নিয়ে সেগুলি চলছে। বিভিন্ন সামগ্রী তারা প্রস্তুত করছে বলে জানিয়েছে। কোম্পানিগুলির অস্তিত্ব আদৌ আছে কি না খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান তদন্তকারীরা। তাঁরা জানতে পারেন, ওই ঠিকানায় কোম্পানিগুলির কোনো প্রোডাকশন ইউনিটই নেই। ভুয়ো ইনভয়েস তৈরি হচ্ছে। সেগুলি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে। গোছা গোছা ইনভয়েস কিনছে একাধিক কোম্পানি। জানা যায়, কাগুজে কোম্পানিগুলির মালিক হলেন জয়দেব মণ্ডল। তিনি গোটা নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে। এরপর জয়দেববাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তাঁকে কোম্পানিগুলির ডিরেক্টর করা হয়েছিল। প্রস্তাব দেওয়া হয় কোম্পানি গুলি ভুয়ো লেনদেন দেখিয়ে বিল জেনারেট করলে তা বিক্রি করে ভালো টাকার কমিশন পাওয়া যাবে। এই লোভে পড়ে তিনি কোম্পানি খুলেছিলেন। কোনো কিছুই উৎপাদন হত না। বিভিন্ন ব্যবসায়ী জাল ইনভয়েস কিনে নিয়ে যেতেন। যে ব্যক্তি তাঁকে এই কোম্পানি খুলতে বলেছিলেন, তাঁর নাম হাতে এসেছে জিএসটি অফিসারদের। পরে তিনি নিজে সক্রিয়ভাবে এই সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়েন। কাগুজে কোম্পানি খুলে ভুয়ো ইনভয়েস বিক্রির চক্র চালাতে শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে আরও অনেকেই রয়েছেন। যাঁরা ভুয়ো ইনভয়েস বেচে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করছেন। এই ভুয়ো নথি জমা করে সরকারের কাছ থেকে আট কোটি টাকার বেশি আইটিসি রিটার্ন তুলে নিয়েছেন একাধিক ব্যবসায়ী। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে জাল ইনভয়েস কিনে নিয়ে যেতেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন ধৃত। ওই ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু হয়েছে।