সৌগত গঙ্গোপাধ্যায় ও অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ, প্রাণেশ হে...’ রবীন্দ্র সঙ্গীত গুনগুন করতে করতে দুলকি চালে মোহন বাগান মাঠে ঢুকছেন সুব্রত ভট্টাচার্য। প্রিয় বাবলু দা’র ছায়ায় আরও জনা সত্তর সবুজ-মেরুন অনুরাগী। প্রত্যেকেই আনন্দে বিহ্বল। ‘জয় মোহন বাগান’ স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে চলেছেন গোলপোস্টের দিকে। সেখানে হাজির দেবাশিস দত্ত, প্রাক্তন ফুটবলার প্রসূন ব্যানার্জি, তরুণ ডিফেন্ডার দীপ্যেন্দু বিশ্বাস। তারপর সমর্থক ও তারকাদের উপস্থিতিতে জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠিত হল বারপুজো।
ময়দানে নববর্ষ মানেই বারপুজো। ফুটবলের টানে আট থেকে আশি, সাতসকালে উপস্থিত প্রিয় ক্লাবে। গোলপোস্ট পুজো করে নতুন মরশুমের জন্য সংকল্প নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ফুটবলের আড্ডা, গানবাজনা, ভুরিভোজ তো আছেই। আর চলতি মরশুমে লিগ-শিল্ড ও আইএসএল কাপ জেতায় মোহন বাগান ক্লাবে বারপুজো ঘিরে অনুরাগীদের উন্মাদনা কয়েক যোজন বেড়ে গিয়েছে। সকাল থেকেই লনে সাজানো ছিল লিগ-শিল্ড ও হকি চ্যাম্পিয়নের ট্রফি। তবে আইএসএল কাপটা চোখে পড়ছিল না। সমর্থকরাও উত্সুক! বেলা ১০টার দিকে ক্লাবে ঢুকল আইএসএল কাপ। তা দেখে সবুজ-মেরুন জনতার খুশির সীমানা ছিল না। মহার্ঘ ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলে রীতিমতো ‘চ্যাম্পিয়ন’ আবেগে ভাসল অনুরাগীরা। ভিড়ের মধ্যে ছিলেন মোহন বাগান সমর্থক তথা গায়ক অভিজিত্ বর্মনও (পটা)। ট্রফির সঙ্গে সেলফি তোলার পর তিনি বলছিলেন, ‘এই আনন্দের ভাগ হবে না। ট্রফিগুলো দেখে কী যে আনন্দ হচ্ছে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। চলতি মরশুমে বারবার মোহন বাগান প্রমাণ করেছে, আমরা ভারতসেরা। ফাইনালের একটা টিকিট তো স্মৃতি হিসেবে বাঁধিয়ে রেখে দিয়েছি।’ বারপুজোয় এসে আপ্লুত তরুণ ডিফেন্ডার দীপ্যেন্দু বিশ্বাসও। তাঁর কথায়, ‘সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে দারুণ লাগছে। চলতি মরশুমে আমরা দারুণ ফুটবল মেলে ধরেছি। এবার সুপার কাপেও সেরাটা মেলে ধরতে বদ্ধপরিকর।’ দীপক টাংরি আবার তাঁর মাকে নিয়ে ক্লাবে এসেছিলেন। পয়লা বৈশাখে অনুরাগীদের উন্মদনায় আপ্লুত বাগান মিডিওর মা। কিংবদন্তি সুব্রত ভট্টাচার্য আবার বলছিলেন, ‘বছরের প্রথম দিনে মোহন বাগান ক্লাব গমগম করবে, এটাই তো রীতি। এবার দল সাফল্য পাওয়ায় সমর্থকরা আরও খুশি।’ বারপুজো উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল। গান গাইলেন ঋষি চক্রবর্তী। এছাড়া মঞ্চে মোহন বাগানের প্রাক্তন ফুটবলার প্রয়াত করুণাশঙ্কর ভট্টাচার্যের বইও প্রকাশিত হল। তবে বারপুজোর আনন্দের সঙ্গে ছিল নির্বাচনের তরজাও। সকালে পুজোর পরই মাঠে ঢোকেন সৃঞ্জয় বসু। সেখানে তাঁকে জড়িয়ে ধরে সৌজন্য বিনিময়ও করলেন দেবাশিস দত্ত।