


সংবাদদাতা, বোলপুর: পর্যটকদের জন্য সুখবর! বিশ্বভারতীতে শুরু হতে চলেছে হেরিটেজ ওয়াক। শুক্রবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। এর জন্য শান্তিনিকেতনের কোর হেরিটেজ এরিয়ায় প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ইউনেস্কোর গাইডলাইন মেনে ঐতিহ্যবাহী আশ্রম এলাকার মূল সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক চরিত্র বজায় রেখে তৈরি হচ্ছে মোরামের রাস্তা। সবকিছু ঠিকঠাক চললে পরের সপ্তাহ থেকে হেরিটেজ ওয়াক শুরু করা হতে পারে বলে জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে একদিন রবিবার চালু থাকবে। ঘোরার জন্য দেড় ঘন্টা বরাদ্দ করা হবে। দর্শনার্থীদের পাঠভবন আশ্রম, নতুন বাড়ি, শান্তিনিকেতন বাড়ি, উপাসনা গৃহ, সিংহসদন ও কালোবাড়ি ঘুরিয়ে দেখানো হবে। সবশেষে, সঙ্গীত ভবনে পাঁচ মিনিটের একটি সাংস্কৃতিক নৃত্যানুষ্ঠানের ব্যবস্থাও থাকবে। যেহেতু শান্তিনিকেতন লিভিং হেরিটেজ সাইট, সেজন্যই এই বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বিশ্বভারতীর এই উদ্যোগে স্বভাবতই খুশি রবীন্দ্র অনুরাগী মানুষজন।
২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড লিভিং হেরিটেজ সাইট’ এর স্বীকৃতি পায় শান্তিনিকেতন। তারপর থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা ব্যাপক হারে বাড়লেও করোনাকালে প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ থেকে বঞ্চিত ছিলেন দর্শনার্থীরা। নতুন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, রবীন্দ্রচিন্তা ও স্থাপত্য দর্শনের সুযোগ সবার জন্য করে তুলতেই ‘হেরিটেজ ওয়াক’-এর ভাবনা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে জোর প্রস্তুতিশুরু হয়েছে ক্যাম্পাসে। বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিনিকেতনের মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালা থেকে শুরু করে পাঠভবন সংলগ্ন চৈত্যবাড়ি হয়ে ছাতিমতলা ফটক পর্যন্ত ইংরেজি এল আকারে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এই রাস্তাটি রবীন্দ্রনাথের সময়কালের আদলে মোরামের উপর দু’পাশে সিমেন্টের ছোট ছোট স্ল্যাব দিয়ে বাঁধানো হবে। সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে তার দুপাশে থাকবে ফুলগাছ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে সংরক্ষিত মোরাম ব্যবহার করেই রাস্তা তৈরি হচ্ছে, যাতে ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ থাকে। এছাড়া, যানজট এড়াতে সুবর্ণরেখার মোড় থেকে জগদীশ কানন হয়ে রবীন্দ্রভবন পর্যন্ত নতুন হাঁটার পথ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
এদিন শ্রীনিকেতনে পল্লী সংগঠন বিভাগের রুরাল এক্সটেনশন সেন্টারের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন উপাচার্য। সেখানে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস গত পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। তাই পর্যটকদের প্রবেশের আগে নিরাপত্তা, প্রস্তুতি ও সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষার জন্য কাজ বিঘ্ন হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক হলে এই মাসের শেষে কিংবা সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে হেরিটেজ ওয়াক শুরু করব। প্রথমে সপ্তাহে একদিন রবিবার ধার্য করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এটি শুরু করা হচ্ছে। তা সফল হলে নভেম্বর মাসে সপ্তাহের পাঁচ-ছয় দিন খুলে দেওয়া হবে। তখন একদিনে প্যাকেজ সিস্টেমে চারটি ব্যাচ ঘুরে দেখতে পারবে। একটি ব্যাচে চারজন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী থাকবে। প্রাথমিকভাবে রবীন্দ্রভবনের মতো ম্যানুয়াল টিকিট করা হবে। তবে, নভেম্বর থেকে অনলাইন পদ্ধতি কার্যকর করা হবে। এর জন্য এজেন্সি নিয়োগ করা হবে।