ঈশ্বরই সত্য, আর সব অনিত্য। জীবন, জগৎ, বাড়ি, ঘর-দ্বার, ছেলে, পিলে—এসব বাজিকরের ভেলকি। বাজিকরই সত্য; তার খেলা সব অনিত্য—স্বপ্নের মতো। সব লোক বাবুর বাগান দেখেই অবাক—কেমন গাছ, কেমন ফুল, কেমন ঝিল, কেমন বৈঠকখানা, কেমন তার ভেতর ছবি, এই সব দেখেই অবাক। কিন্তু কই, বাগানের মালিক যে বাবু তাঁকে খোঁজে ক-জন? বাবুকে খোঁজে দুই-একজনা। ঈশ্বরকে ব্যাকুল হয়ে খুঁজলে তাঁকে দর্শন হয়, তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়, কথা হয়; যেমন, আমি তোমাদের সঙ্গে কথা কচ্ছি। সত্য বলছি দর্শন হয়! এ কথা কারেই বা বলছি—কে বা বিশ্বাস করে! ভগবান সকলকার ভেতর কিরূপে বিরাজ করেন জান? যেমন চিকের ভেতর বড়লোকের মেয়েরা থাকে। তারা সকলকে দেখতে পায়, কিন্তু তাদের কেউ দেখতে পায় না। ভগবান ঠিক সেইরূপে বিরাজ করছেন। ব্রহ্ম ও শক্তি অভেদ। ব্রহ্ম যখন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকেন, তখন তাঁকে শুদ্ধ ব্রহ্ম বলে; আর যখন সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয় ইত্যাদি করেন, তখন তাঁর শক্তির কাজ বলে। ঈশ্বরেতে সর্বদা মন রাখবে। প্রথমে একটু খেটে নিতে হয়। তারপর পেনশন ভোগ করবে। স্যাকরারা সোনা গলাবার সময় চোঙ, পাখা, হাপর সব দিয়ে হাওয়া করে, যাতে আগুনের খুব তেজ হয়ে সোনাটা শীঘ্রই গলে যায়। কাজ শেষ করে বলে, তামাক সাজ। ভগবানের নাম করলে মানুষের দেহ, মন সব শুদ্ধ হয়ে যায়। তাঁর কি স্বরূপ তা মুখে বলা যায় না। কিন্তু যতক্ষণ তুমি নিজে সত্য ততক্ষণ জগৎও সত্য, ঈশ্বরের নানা রূপও সত্য। ঈশ্বরে ব্যক্তিবোধও সত্য। যারা নিজে ঐশ্বর্য ভালবাসে তারা ঈশ্বরের ঐশ্বর্য বর্ণনা করতে ভালবাসে। ঈশ্বরের মাধুর্যরসে ডুবে যাও। তাঁর অনন্ত সৃষ্টি। অনন্ত ঐশ্বর্য।


