নয়াদিল্লি: পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হবে জম্মু ও কাশ্মীরকে। বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত সেকথা জানানো হয়েছে। শ্রীনগরে জনসভাতে একই প্রতিশ্রুতি শোনা গিয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গলায়। ইতিমধ্যে ওমর আবদুল্লার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে। কিন্তু পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি পালনে কোনও গরজ দেখাচ্ছে না মোদি সরকার। সামনেই সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগেই এই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে চিঠি লিখলেন লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বুধবার পাঠানো সেই যৌথ চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, ‘গত পাঁচ বছরে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ বারবার পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবি করেছেন। মনে রাখা উচিত, অতীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে রাজ্যে উন্নীত করার বহু নজির রয়েছে। স্বাধীন ভারতে জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তার দ্বিতীয় কোনও উদাহরণ নেই। এই প্রথম একটি রাজ্যকে ভেঙে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে।’
আগামী ২১ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এই অধিবেশনেই জম্মু ও কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর জন্য বিল আনার কথা বলেছেন রাহুল ও মল্লিকার্জুন। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখকেও সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে আনারও দাবি করেছেন দু’জনে।
২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেই জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভেঙে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করে মোদি সরকার। এরপর প্রায় ছ’বছর কাটতে চলল। কেন্দ্র দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্তের জেরে এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার এসছে। এর মধ্যেই রবিবার শহিদ দিবস পালন ঘিরে জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার দু’দিন পরেই রাহুল-মল্লিকার্জুনের চিঠি। এজন্য কংগ্রেস নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তিনি বলেন, ‘সংসদে, সুপ্রিম কোর্টে এবং জনসভায় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা পালনের দাবি তুলেছি আমরা। যত দ্রুত সম্ভব জম্মু ও কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিক কেন্দ্র।’ - ফাইল চিত্র



