Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিএড কলেজে জেনারেল ডিগ্রি কোর্স, অনুমোদন দেবে কারা? এনসিটিইকে চিঠিতে প্রশ্ন তুলল শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়

বিএড কলেজে জেনারেল ডিগ্রি কোর্স চালু হলে সেগুলির অনুমোদন এবং স্বীকৃতি কারা দেবে? এই ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশিকা চেয়ে টিচার এডুকেশনের কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিইকে চিঠি দিয়েছে বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি।

বিএড কলেজে জেনারেল ডিগ্রি কোর্স, অনুমোদন দেবে কারা? এনসিটিইকে চিঠিতে প্রশ্ন তুলল শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: বিএড কলেজে জেনারেল ডিগ্রি কোর্স চালু হলে সেগুলির অনুমোদন এবং স্বীকৃতি কারা দেবে? এই ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশিকা চেয়ে টিচার এডুকেশনের কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিইকে চিঠি দিয়েছে বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয় এরাজ্যের বিএড কলেজগুলিকে অনুমোদন দেয়। তবে, সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলি কোনও না কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন। সেক্ষেত্রে এডুকেশন ইউনিভার্সিটির এক্তিয়ার কী হবে, সেই ব্যাপারে বিভ্রান্তি রয়েছে। তাই এই চিঠি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

টিচার এডুকেশন বা শিক্ষক শিক্ষণ নিয়ে বার বার নীতি পরিবর্তনের শিকার হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি। আর তার রেশ পড়তে চলেছে ছাত্রছাত্রীদের উপরেও। জাতীয় শিক্ষানীতিতে উল্লিখিত মাল্টিডিসিপ্লিনারি স্টাডিজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি নির্দেশ দিয়েছে এনসিটিই। তাতে বলা হয়েছে, কোনও বিএড কলেজ আর শুধুমাত্র একটি বিষয়েই ডিগ্রি দিতে পারবে না। চালু করতে হবে বিএ, বি-এসসি এবং বি-কমের মতো জেনারেল ডিগ্রি কোর্সও। তবে, সেই কোর্সের অনুমোদন বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারবে না। তাহলে কি একই কলেজের পৃথক কোর্স দু’টি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলবে? এ ধরনের জটিলতার কোনও ব্যাখ্যা এখনও এনসিটিই থেকে আসেনি।
এনসিটিই প্রথমে বিএড কোর্স দু’বছরের করল। তারপরে চালু হল চার বছরের ইন্টিগ্রেটেড বিএ-বিএড বা বিএসসি-বিএডের মতো কোর্স। তবে, সেটাও ঠিকমতো চালু হওয়ার আগেই নীতি পরিবর্তন করে দিয়েছে এনসিটিই। এখন তারা ইন্টিগ্রেটেড টিচার্স এডুকেশন পোগ্রাম (আইটিইপি) চালুর কথা বলছে। তাতে চালু পদ্ধতির ডিএলএড কোর্স পুরোপুরি পাল্টে যাবে। আবার একবছরের বিএড কোর্সও ফিরিয়ে এনেছে এনসিটিই। শুধুমাত্র আইটিইপি থাকবে যে প্রতিষ্ঠানে, তারাই একবছরের বিএড কোর্স করাতে পারবে। বাকিরা করাবে দু’বছরের কোর্স।
আইটিইপি চালুর শর্ত হিসেবেই এই জেনারেল ডিগ্রি কোর্স প্রতিষ্ঠানগুলিতে শুরু করতে বলেছে এনসিটিই। বার বার এই নীতি পরিবর্তনে যে গোটা সিস্টেমটাই বিপাকে পড়ছে তা মানছেন সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেসবও কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ইতিমধ্যেই ইউজিসির একটি বৈঠকে নীতি প্রণয়নে আঞ্চলিক বা রাজ্যভিত্তিক সমস্যাগুলি মাথায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
এরাজ্যে ডিগ্রি কোর্সের আসন উদ্বৃত্ত। স্রেফ উদ্বৃত্ত বললেও ভুল বলা হয়। চাহিদার দ্বিগুণ আসন রয়েছে এরাজ্যের কলেজগুলিতে। এবার যদি ছ’শোরও বেশি বিএড কলেজে জেনারেল ডিগ্রি পড়ানো হয়, তাহলে ছাত্র কোথা থেকে জোগাড় হবে, সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে। শিক্ষাবিদদের একটা বড় অংশের মতে, ইন্টিগ্রেটেড ডিগ্রি কোর্সই সবচেয়ে উপযোগী সিদ্ধান্ত। কারণ, একটি কলেজের অধ্যক্ষ হতে গেলে পিএইচ-ডি করলেই চলে। তবে, একটি বিএড কলেজের অধ্যক্ষ হতে গেলে পিএইচ-ডি’র পাশাপাশি বিএড এবং এমএড কোর্স করতে হয় প্রার্থীদের। আর বিএড করার আগে কোনও বিষয়ে মাস্টার ডিগ্রি থাকতে হয়। এর ফলে বাড়তি চারবছর খরচ হয় তাঁদের। ইন্টিগ্রেটেড কোর্সে এই সময়টাই বেঁচে যায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ