নয়াদিল্লি: ইজরায়েলের হামলা অব্যাহত। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। মৃত্যুভয়কে সঙ্গী করে অনাহারে দিন কাটছে বিধ্বস্ত গাজাবাসীর। জল ও একমুঠো খাবারের আশায় ত্রাণ শিবিরের দীর্ঘ লাইনে দিন কাটছে আট থেকে আশির। ইজরায়েলে অবশ্য অন্য ছবি। বিলাসবহুল বিয়ের পরিকল্পনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ছেলে। আগামী ১৬ জুন বসতে চলেছে ওই বিয়ের আসর। ইতিমধ্যে জমকালো এক প্রি-ওয়েডিং অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আভনের নেতানিয়াহুর বিয়ে উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবার ও বন্ধুদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন বহু গণ্যমান্যরাও। আর গাজা ও ইজরায়েলের দুই বিপরীত চিত্র বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বড় ছেলে ইয়ের নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত মুখ। যদিও তাঁর অপর পুত্র আভনের প্রচারের আড়ালেই থাকেন। ওয়াইনেট নিউজ সূত্রে খবর, গত নভেম্বর মাসে বান্ধবী অমিত ইয়ার্দেনির সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হয়েছে আভনেরের। এবার গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন তাঁরা। আর সেই বিয়ে নিয়ে রীতিমতো উত্তেজনার পারদ চড়ছে দেশজুড়ে। জানা গিয়েছে, জমকালো প্রি-ওয়েডিং সেরেমনিতে বসেছিল চাঁদের হাট। সেখানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীও। সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও সামনে আসতেই ইজরায়েলজুড়ে তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কারণ এর আগে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ছেলের প্রি ওয়েডিংয়ে যোগ দেবেন না তিনি। কিন্তু এরপরও ওই এলাহি আয়োজনে নেতানিয়াহুর উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
সদ্য প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, গাজার ২০ লক্ষ বাসিন্দার মধ্যে অধিকাংশরই অনাহারে দিন কাটছে। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর ছেলের বিয়ের আড়ম্বরের পরিকল্পনা ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল সমালোচনা। অনেকেরই বক্তব্য, এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিয়ের দিন বিক্ষোভ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অনেকে। তবে বিরুদ্ধ মতও রয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন, যে কোনও সাধারণ নাগরিকের মতো আভনেরেরও অধিকার রয়েছে বিলাসবহুলভাবে বিয়ে করার।