নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ার বেলগাছিয়ায় ভূমিধস পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর একের পর নিত্যদিন এক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একটির সমাধান হচ্ছে তো মাথাচাড়া দিচ্ছে অন্য একটি। বুধবার জগাছার আরুপাড়ায় নির্দিষ্ট ফাঁকা জমিতে আবর্জনা ফেলতে গিয়েছিল জঞ্জালের গাড়ি। কিন্তু কর্মীদের বাধা দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবর্জনা ফেলা সম্ভব হয়নি। ফলে বুধবারও জঞ্জাল সংগ্রহ কার্যত বন্ধই থাকল হাওড়ায়।
মঙ্গলবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর হাওড়ার আবর্জনা সমস্যা মেটাতে বলেছিল, আগামী এক মাস আবর্জনা ফেলা হবে আরুপাড়ায়। পরে ভাগে ভাগে তা নিয়ে যাওয়া হবে কলকাতা ও বৈদ্যবাটির ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। কিন্তু বুধবার পুরসভার আবর্জনা সংগ্রহকারী গাড়িগুলি আরুপাড়া পৌঁছতেই বাধা দেন স্থানীয়রা। এরপর হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক জানান, এখন থেকে সরাসরি ধাপার ডাম্পিং গ্রাউন্ডেই পাঠানো হবে আবর্জনা।
বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ভয়াবহ ভূমিধসের পর তা পরিত্যক্ত বলে ঘোষণা করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। হাওড়া শহরে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ছ’শো মেট্রিক টন আবর্জনা জমে। তা ফেলতে আরুপাড়ায় আট একর ফাঁকা সরকারি জমি চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেখানে প্রতিদিনকার আবর্জনা ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বুধবার ২৫টি জঞ্জালের গাড়ি সেখানে পৌঁছতেই স্থানীয় বাসিন্দারা তা ফেলা যাবে না বলে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের দাবি, পাশের এলাকায় হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়, অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার, প্রাথমিক স্কুল, ফুটবল কোচিং সেন্টার, পার্ক ও বসতি রয়েছে। ভাগাড় তৈরি হলে এলাকায় দূষণ ছড়াবে। শ্যামলকুমার দাস, মিন্টু ঘোষ, শুভদীপ দাস নামে কয়েকজন বিক্ষোভকারী বলেন, ‘বেলগাছিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য এখানে আনা যেতে পারে। কিন্তু ভাগাড়ের আবর্জনা ফেলতে দেব না। কোনওভাবেই তা হতে দেব না।’ লাগাতার বিক্ষোভের জেরে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে আবর্জনা বোঝাই লরি। পরে জগাছা থানার পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামলায়। মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘আবর্জনা কলকাতা ও বৈদ্যবাটিতে পাঠানোর নির্দেশ ছিল। সে কাজে এক মাস সময় চেয়েছিল কলকাতা পুরসভা। কিন্তু এখন স্থানীয়দের আপত্তির কারণে আরুপাড়ায় আবর্জনা ফেলা হবে না। কলকাতার ধাপায় কম্পোস্ট তৈরির জন্য হাওড়া থেকে রোজকার আবর্জনা যাবে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগ্রহ করা আবর্জনার পুরোটাই পাঠানো হবে ধাপায়। পরে হাওড়ায় বিকল্প জায়গা ঠিক করে প্রসেসিং ইউনিট তৈরি হবে। আবর্জনা না জমিয়ে সেখানেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ হবে।
অন্যদিকে জঞ্জাল সংগ্রহ না হওয়ায় মঙ্গলবারের মতো বুধবারও শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঢেকে যায় আবর্জনায়। পঞ্চাননতলা, বেলিলিয়াস রোড, চ্যাটার্জি হাট এলাকার ভ্যাটগুলি ভাগাড়ের চেহারা নেয়। দুর্গন্ধে অতিষ্ট নাগরিকরা। আবর্জনার সমস্যা দ্রুত মেটানোর দাবি জানিয়েছে ক্ষুব্ধ শহরবাসী।