সোমনাথ বসু, কলকাতা: লজ্জা শব্দটি এখন হয়তো লজ্জায় মুখ ঢেকেছে। নেপথ্যে এক এবং অদ্বিতীয় গৌতম গম্ভীর। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ঘরের মাঠে ধবল ধোলাই হওয়ার পরেও বুক ঠুকে তিনি বলছেন, ‘এই দায় আমার একার নয়। দলের প্রত্যেকের।’ কী আশ্চর্য! ০-২ ব্যবধানে ভরাডুবির লজ্জা তিনি অকাতরে বিলিয়ে দিলেন তাঁর ছাত্র কিংবা শিষ্যদের মধ্যে! তাঁর তো উচিত ছিল, যোগ্য কোচের মতো যাবতীয় দায় নিজের কাঁধে নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো। কিন্তু এই গৌতম দ্বিচারিতায় ভরপুর। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি গম্ভীর। আর ভারতীয় ক্রিকেটের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা জয় শাহ কিংবা তস্য পিতা অমিত শাহের কাছে নিতান্তই ভৃত্য। গেরুয়া আশীর্বাদ মাথায় থাকলে তাঁর চাকরি কে খায়? আর তাই তিনি অম্লানবদনে বলতে পারেন, ‘আমার ভবিষ্যৎ বোর্ড ঠিক করবে।’
নিউজিল্যান্ডের কাছে ০-৩, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ০-২ ব্যবধানে টিম ইন্ডিয়ার হার মেনে নিতে পারছে না আসমুদ্রহিমাচল। সেটাই স্বাভাবিক। শুধু হার নয়, লজ্জার হার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪’এ ৩৬ বছর পর কিউয়িরা ভারতের মাটিতে এসে গম্ভীর-ব্রিগেডকে শুধু হারায়নি, প্রথমবার চুনকাম করেছে। সেই সিরিজে ৪৬ রানে অল-আউট হয়েছিল এই কোচের সাধের দল। এখানেই শেষ নয়। এক দশক পরে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে অপদার্থ কোচের ভুল স্ট্র্যাটেজির জন্য। তারপরেও ঘুরে দাঁড়ানোর বিন্দুমাত্র লড়াইও আমদানি হল না গম্ভীর-শিবিরে। দক্ষিণ আফ্রিকা এল, দেখল এবং হেলায় হারাল ভারতকে। ইডেনের পরে গুয়াহাটিতেও অবাক কাণ্ড! ১০০, ২০০ কিংবা ৩০০ নয়, ৪০৮ রানে হার। নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ প্রথম ইনিংসে তোলে ৪৮৯ রান। শতরান অনামী, অখ্যাত মুথুস্বামীর। আর দুই ইনিংস মিলিয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সংগ্রহ ৩৪১। তাহলে আপনারাই বলুন, এই পারফরম্যান্সের জন্য কোচের প্রয়োজন আছে কি? কোটি কোটি টাকা খরচ করে গম্ভীরকে পুষে ভারতীয় ক্রিকেট অন্তর্জলি যাত্রার দিকে এগোচ্ছে। আর অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো বসে আছেন জয় শাহ।
সিরিজের পর সিরিজ হারের কারণ কী? অনেকের ধারণা, কোচ হিসেবে গম্ভীরের তুঘলকি আচরণকে মেনে নিতে পারছেন না একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটার। কোলের ছেলে সাই সুদর্শন, নীতীশ রেড্ডিরা সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন কোচ। যে ফার্স্ট ডাউনে রাহুল দ্রাবিড় একযুগ এবং তারপর ১০ বছরেরও বেশি চেতেশ্বর পূজারা ব্যাট করেছেন, গম্ভীর সেই তিন নম্বরেই ১৪ মাসে খেলিয়েছেন বিরাট কোহলি, শুভমান গিল, সাই সুদর্শন, ওয়াশিংটন সুন্দর, করুণ নায়ার, দেবদূত পাদিক্কাল ও লোকেশ রাহুলকে। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এমনটা আগে কোনওদিন হয়নি।
ভারতীয় ক্রিকেটাররা প্রতি ম্যাচে একই ভুল করছেন। তাহলে গম্ভীরের কাজটা কী? তিনি শুধু গায়ে গেরুয়া হাওয়া লাগিয়ে ঘুরবেন! আর কিউরেটরের সঙ্গে গম্ভীর আলোচনা করে নিজেদের বধ্যভূমি তৈরিতে মন দেবেন। এই সময় তো ছেলেদের ভুলত্রুটি শুধরে দেওয়ার পিছনে ব্যয় করলে টিম ইন্ডিয়ার এই দুরবস্থা হতো না।
কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা হতাশ। কিন্তু চিন্তা নেই। শুভমান গিলরা ফের টেস্ট খেলবেন আগামী বছরের আগস্টে। অ্যাওয়ে সিরিজে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। তার আগে রয়েছে সাদা বলের ক্রিকেট, টি-২০ বিশ্বকাপ এবং অবশ্যই আইপিএল। বিনোদনমূলক ক্রিকেটের চোখ ধাঁধানো নিলামই আমাদের সব ব্যর্থতা ভুলিয়ে দেবে। আর গম্ভীর গুনগুন করে গেয়ে যাবেন ‘দুটি পাতা’ ছবিতে অমিত কুমারের সেই গান, ‘শাবাস, কেন যে এমন হল কে জানে/ শাবাস, শাবাস, শাবাস।’