


অর্ক দে, কলকাতা: দমদম স্টেশন থেকে চিড়িয়া মোড়গামী রাস্তায় কাজ হচ্ছে। নতুন করে তৈরি হচ্ছে ভূগর্ভস্থ নিকাশি। মাটির নীচে বসানো হচ্ছে বড়ো বড়ো পাইপ। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে হয়েছে। বেশ কয়েক মাস ধরে চলছে কাজ। ফলে দমদম রোডের অবস্থা বেহাল। এই ব্যস্ত রাস্তায় একাধিক বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলে। রয়েছে অটো রুট। স্বাভাবিকভাবেই যানজট হচ্ছে। ভোগান্তি চলছে মানুষের। রাস্তার এই অবস্থা নিয়ে কথা পাড়তেই অটোচালক বললেন, ‘তিন চার মাস হয়ে গেল, কাজ হয়েই চলেছে। তবে কাজটা হয়ে গেলে এই চত্বরে আর জল জমবে না। সেটা একটা বড়ো স্বস্তি।’ অটোর মহিলা যাত্রী বললেন, ‘এই কাজটা হওয়া খুব দরকার ছিল। সেভেন ট্যাংক, চিড়িয়া মোড়, দমদম রোডে বৃষ্টির সময় যা অবস্থা হয়, তাতে এই নিকাশির কাজ জরুরি। ভালো কিছুর জন্য কিছুটা দুর্ভোগ তো সহ্য করতেই হবে।’
কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন ১, ২, ৩ এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশে বর্ষায় জল জমার সমস্যা প্রবল। এই দুর্ভোদের হাত থেকে মানুষকে রেহাই দিতে রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তায় নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা হচ্ছে। বীরপাড়া ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন থেকে দমদম রোড হয়ে চিড়িয়ামোড় পর্যন্ত ২ মিটারের নিকাশি পাইপ বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ। খরচ হচ্ছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা।
স্বভাবতই বিপুল এই কর্মযজ্ঞের ‘ক্রেডিট’ পাচ্ছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী অতীন ঘোষ। তৃণমূলের প্রচারে উঠে আসছে সেকথা। তবে কাশীপুর রোডে সারাক্ষণ ধুলো ওড়ার ফলে যে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি হয়, তার কোনো সুরাহা হয়নি আজও। নাক-মুখ চেপে যাতায়াত করতে হয়। অতীনবাবু বলছেন, ‘এই সমস্যার সমাধান করতে আমরা রেলকে চিঠি দিয়েছি। রেল কিছু করেনি। এবার জিতে এসে বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হব। এখান থেকে সিমেন্টের গুদাম সরাতেই হবে রেলকে।’
দমদমের কিছু অংশ, বেলগাছিয়া, পাইকপাড়া, কাশীপুর, টালা, ঘোষপাড়া সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্র। একদা ‘লালদুর্গ’ ২০১১ সালের অনেক আগেই ‘সবুজ’ হয়েছে। বিধায়ক হয়েছিলেন তৃণমূলের মালা সাহা। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জেতেন অতীন। গত পাঁচ বছরে কাজের খতিয়ান দিয়ে বই প্রকাশ করেছেন। নিকাশি উন্নয়ন থেকে শুরু করে স্থানীয় হাসপাতালের মানোন্নয়ন, এলাকাভিত্তিক স্বাস্থ্য শিবির, বস্তি উন্নয়ন থেকে কমিউনিটি হল নির্মাণ—উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা। বিরোধীরা তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে প্রচার চালাচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী রীতেশ তেওয়ারি থেকে বাম প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্তার মুখে একই কথা। রীতেশ তেওয়ারি বলেন, ‘উনি এই অঞ্চলের সমস্যা জানেন না। বিগত পাঁচ বছরে উনি নিজস্ব গণ্ডির বাইরে বের হননি। এলাকার মানুষ ওঁকে দেখতে পাননি। কোনো বহিরাগতকে কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বাসিন্দারা আর মেনে নেবেন না। এলাকায় সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, বেআইনি নির্মাণ ভরে গিয়েছে। আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চাইছি।’ সবজিবাগান অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি প্রচারে বেরিয়ে সিপিএম প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্তা রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সেই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘বিভিন্ন রাস্তায় লাইট নেই। বস্তির উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র নোংরা জমে থাকে। বেআইনি নির্মাণ, সিন্ডিকেটরাজ চলছে। তাছাড়া অতীনবাবু এখানকার লোক নন, অতিথি। মানুষ এবার তাঁকে ভোট দেবেন না।’
পালটা অতীন বলছেন, ‘এই বিধানসভা এলাকায় পাঁচটি বিধায়ক কার্যালয়। সব জায়গায় আমি বসি। অবারিত দ্বার। স্বাস্থ্যশিবির করেছি। হাজার হাজার মানুষ চশমা পেয়েছেন। আসলে বিরোধীরাই এখানে পরিযায়ী পাখি। ওঁদের মুখ অঞ্চলের কেউ কোনোদিন দেখেননি।’ আগামী দিনে টালা পার্কে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, এলাকায় সরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুল, ইন্দিরা মাতৃসদনের উন্নতি সহ একাধিক ‘প্রতিজ্ঞা’ নিয়েছেন অতীন। তৃণমূলের হিসাবে রয়েছে এই অঞ্চলের একাধিক ওয়ার্ডে হিন্দিভাষাভাষী ভোটারের অঙ্কও। গত লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে পিছিয়ে থাকলেও সব মিলিয়ে তৃণমূল অনেকটা এগিয়ে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।