


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: সম্প্রতি দেশের নীতি আয়োগ ‘সামারি রিপোর্ট ফর দি স্টেট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল’ প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্টে মানচিত্র বিভ্রাট নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। রিপোর্টের প্রচ্ছদে বিহারের মানচিত্রকে পশ্চিমবঙ্গের বলে চালানোর প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে এই রিপোর্টেই কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করে বেকারত্ব কমানোর ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের সাফল্য কার্যত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন নীতি আয়োগ। এই রিপোর্টে সাফ বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বার্ষিক বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই কম। তাৎপর্যপূর্ণ হল, যে সময়কালে বাংলায় বেকারত্বের হার কমার কথা বলা হচ্ছে, সেই সময় বাংলায় ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার। ফলে রাজ্যের আর্থিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কর্মশ্রী প্রকল্পের উপর নির্ভর করেই বেকারত্ব কমানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকে বলছেন, কেন্দ্রের এই রিপোর্ট বিরোধীদের বেকারত্ব ইস্যুকে কার্যত ভোঁতা করে দিল। এর পাশাপাশি, এ রাজ্যে মানুষের জীবনযাত্রার মানের সার্বিক উন্নয়ন এবং বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান দেশের গড়ের থেকে অনেক ভালো বলেও মেনে নিয়েছে নীতি আয়োগ।
এই রিপোর্টে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বার্ষিক বেকারত্বের হার ২.২ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের থেকে অনেকটাই কম। দেশের বার্ষিক বেকারত্বের হার হল ৩.২ শতাংশ। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মন্ত্রকের প্রকাশিত ‘পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভে’ (২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে নীতি আয়োগ। তবে মহিলাদের কাজে যুক্ত হওয়ার (ফিমেল লেবার ফোর্স পার্টিসিপেশন রেট) হার জাতীয় গড়ের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। এছাড়া, জনসংখ্যা, রাজ্যের আর্থিক উন্নয়ন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের একাধিক ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতির বিষয়টি মেনে নিয়েছে নীতি আয়োগ।
২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজ্য। এর ফলে রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে অনেকটাই। বিভিন্ন সভামঞ্চ থেকে একাধিকবার এই দাবি শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। এবার এই দাবিও মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। ফলে স্বাস্থ্যক্ষেত্র নিয়েও রাজ্যের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ‘অস্ত্র’ হাতছাড়া হল বলে দাবি প্রশাসনিক মহলের।