Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চাকরি থেকে প্রচার! সিপিএম রয়েছে চিরকুটেই, গোপনীয়তা কেন? কটাক্ষ কুণালের

ক্ষমতায় থাকার সময় সিপিএম তাদের সদস্য-দরদীদের চিরকুটে লিখে চাকরি দিত! রাজ্যের শাসক দল সহ তামাম বাম বিরোধীরা এমন অভিযোগ মাঝেমধ্যেই করে থাকে।

চাকরি থেকে প্রচার! সিপিএম রয়েছে চিরকুটেই, গোপনীয়তা কেন? কটাক্ষ কুণালের
  • ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষমতায় থাকার সময় সিপিএম তাদের সদস্য-দরদীদের চিরকুটে লিখে চাকরি দিত! রাজ্যের শাসক দল সহ তামাম বাম বিরোধীরা এমন অভিযোগ মাঝেমধ্যেই করে থাকে। সিপিএমের লোকাল কমিটি থেকে হাতে লেখা চিরকুট পেলেই নাকি ‘লাইফ সেটল’ হয়ে যেত তখন। সেসব এখন অতীত! ১৫ বছর আগে রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। এই সময়কালে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই চাকরি নিয়েই শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছে সিপিএম। তবে পরপর ভোটে নামতে নামতে একেবারে শূন্যে গিয়ে পৌঁছেছে তারা। কিন্তু ‘চিরকুট’ ছাড়েনি! আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে চিরকুট ফিরিয়ে এনেছে সিপিএমের ছাত্র-যুবরা। বেলেঘাটা থেকে বেহালা—বিভিন্ন এলাকার তরুণ ও প্রথম ভোটারদের বিলি করা হচ্ছে হাতে লেখা ‘কাজের চিরকুট’। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। তিনি এই প্রচারকে ‘বিকৃত’ বলেও তোপ দেগেছেন।

Advertisement

কী আছে সিপিএমের এই চিরকুটে? তার কোনোটিতে লেখা, ‘তোমার চাকরি কিন্তু চুরি গিয়েছ! যারা চুরি করেছে, তারাই ভোট চাইতে আসছে।’ কোনোটিতে লেখা, ‘প্রেমিক/প্রেমিকাকে প্রোপোজ করতে ভয় পাচ্ছ? শুধু ভাতা দিয়ে সংসার চলবে না ভাবছ? এসব ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে সিপিএমকে ভোট দিতে হবে।’ কিছু চিরকুটে বিজেপিকে আক্রমণ করা হয়েছে। বাংলা ভাষা বললেই বাংলাদেশি, বিজেপির তরফে মাছ-মাংস নিষিদ্ধ করার নিদানকে আক্রমণ করা হয়েছে। এভাবেই তৃণমূল-বিজেপি শক্তি হিসাবে নিজেদের তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে সিপিএম। গত ২৮ মার্চ বেকারি বিরোধী দিবস বেলেঘাটা, বেহালার মিছিল থেকে রঙিন কাগজে মোড়া এমন অজস্র চিরকুট বিলি করা হয়েছে। সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের কলকাতা জেলা সভাপতি সোহম মুখোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘প্রথম ভোটার বা কমবয়সি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। হাতে লিখে দেওয়ার মধ্যে আলাদা একটা একাত্মতা আছে। তাই এই পন্থা।’ 
আসন সংখ্যায় শূন্য হয়ে গেলেও চিরকুট ছাড়তে পারল না সিপিএম? সোহমের জবাব, ‘চাকরি-কাজের কথাই প্রচারে আনা হয়েছে চিরকুটে। এখন তৃণমূলের যেসব শিক্ষক নেতা আছেন, তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন, সেকালে চিরকুটে চাকরি হত কি না। তাঁরাই তো গর্ব করে বলেন, আমরা ২০১১ সালের আগে চাকরি পেয়েছি। এখন তো আর কোনোভাবেই চাকরি হচ্ছে না।’  একাধিক চিরকুটে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষকেও আক্রমণ করেছে বাম ছাত্র-যুবরা। এ বিষয়ে কুণাল বলেন, ‘সিপিএমের সবটাই বিকৃত ধরনের। ওরা প্রচারটাও গোপনে করছে। প্রচারের মধ্যে আবার চিরকুট থাকবে কেন? চিরকুট মানেই তো গোপনীয়তা। যা বলার সামনে এসে বলবে। প্রকাশ্যে বলবে। মাইকে বলবে। তাছাড়া এই বেলেঘাটা এলাকার মানুষ সিপিএমের সমস্ত কুকর্ম জানে। এলাকার মানুষকে নতুন করে আর কিছু জানাতে হবে না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ