Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেলঘরিয়া থেকে যাদবপুর: পেট্রল পাম্পে অটোর ভিড় বাড়ছে ক্রমশ! শহরতলির বহু রুটে বাড়তি ভাড়া পকেট কাটছে মধ্যবিত্তের

দিন তিনেক আগে অটোতে গ্যাস ভরেছিলেন সুরজিত্ দাস। শেষ হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার গিয়েছিলেন যাদবপুরের সাউথ সিটি সংলগ্ন পেট্রল পাম্পে। সেখানে অনন্ত অপেক্ষা।

বেলঘরিয়া থেকে যাদবপুর: পেট্রল পাম্পে অটোর ভিড় বাড়ছে ক্রমশ! শহরতলির বহু রুটে বাড়তি ভাড়া পকেট কাটছে মধ্যবিত্তের
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বরানগর: দিন তিনেক আগে অটোতে গ্যাস ভরেছিলেন সুরজিত্ দাস। শেষ হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার গিয়েছিলেন যাদবপুরের সাউথ সিটি সংলগ্ন পেট্রল পাম্পে। সেখানে অনন্ত অপেক্ষা। বললেন, ‘সাড়ে তিন ঘণ্টা হয়ে গেল দাঁড়িয়ে আছি। যা মনে হচ্ছে আরও দাঁড়াতে হবে। কখন যে ভাড়া খাটব জানি না।’ অটোচালকরা যেমন একদিকে দাঁড়িয়ে থাকছেন গ্যসের লাইনে। অন্যদিকে তখন যাত্রীরা দাঁড়িয়ে অটোর ধরার লাইনে। এক চালক বললেন, ‘মালিক তো ৫০০ টাকা গুনেগুনে নিয়ে নেবেন। আমি ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর কখন ভাড়া খাটব? আজও গাড়ি চালিয়ে লাভ করতে পারব না।’ যাত্রীদের বক্তব্য, ‘বহুক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তবে অটো মিলছে। অন্যদিকে ভাড়াও বেশি নিচ্ছে।’ অভিযোগ, উত্তর ও দক্ষিণ শহরতলির বহু এলাকায় অলিখিতভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অটো ভাড়া।

Advertisement

উত্তর শহরতলিতে গ্যাস ভরানোর একমাত্র ভরসার জায়গা বেলঘরিয়া গ্যাস স্টেশন। সেখানে অটোর লাইন ক্রমশ বাড়ছে। ভোর রাত থেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন অনেকে। গ্যাস পাচ্ছেন দুপুরের পর। গ্যাসের আকাল দেখা দেওয়ায় শহরতলির কিছু ঘোষিত রুটে অলিখিতভাবে অটোর ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, উত্তর শহরতলিতে চারটির মতো এলপিজি গ্যাস ভরার পাম্প আছে। চলতি সপ্তাহের প্রথম থেকেই বেশিরভাগ পাম্পে এলপিজি সরবরাহ নেই। একমাত্র বেলঘরিয়ার নীলগঞ্জ রোডের পাম্প ঠিকঠাক আছে। শুক্রবার দুপুরে সেখানে অটোর লাইন কয়েক কিলোমিটার লম্বা। বারাকপুর, শ্যামনগর, মধ্যমগ্রাম, নিউ বারাকপুর, পানিহাটি, খড়দহ, নাগেরবাজার, কাশীপুর সহ বিভিন্ন জায়গার কয়েক হাজার অটো গ্যাস ভরতে লাইনে দাঁড়িয়ে। শ্যামনগর থেকে এসেছেন অমিত দাস। তিনি বলেন, ‘কাটা গ্যাস (বেআইনিভাবে বিক্রি হওয়া  গ্যাস) পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল সাতটায় এসে লাইন দিয়েছি। সন্ধ্যা ছ’টার পর পেয়েছি গ্যাস।’ ভাড়া কি বেড়েছে? তিনি জানান, শ্যামনগর থেকে বারাকপুর পর্যন্ত পাঁচ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। মাঝে কোথাও নেমে গেলে আগের মতোই ১০ টাকা। নাগেরবাজারের অটোচালক গোপাল দাস বলেন, ‘কাটা গ্যাস এতদিন ভরতাম। ওইসবও এখন বন্ধ।’ সোদপুর যাওয়ার জন্য ডানলপে দাঁড়িয়ে রেখা দত্ত বললেন, ‘অটো পেলাম না। হাঁটুর ব্যথায় কষ্ট পেলেও বাসেই উঠতে হবে।’ 
অন্যদিকে যাদবপুরে পেট্রল পাম্পের অটোর লাইনে দাঁড়িয়ে শ্যামল সাহা বললেন, ‘আমিও পরশু গ্যাস ভরেছি। । বৃহস্পতিবার গ্যাস পাইনি।’ কুঁদঘাট-বাগানপাড়া রুটের অটোচালক ছোটু দাস বললেন, ‘গাছতলার পাম্পে গ্যাস নেই। তাই এত দূর আসতে হল। তাও শুনছি ভালো প্রেশার নেই। হাওয়া ঢুকে যায়। ফুল ট্যাঙ্ক করলেও চলে না।’
চালক থেকে যাত্রী, সকলের প্রশ্ন একটাই, এই সমস্যা কবে মিটবে? অনেক অটোচালকের আবার মনে পড়ে যাচ্ছে এলপিজিতে অটো চলা শুরুর সেই সব দিনগুলির কথা। চালক ছোটু বললেন, ‘সেবার এরকমই সমস্যা হয়েছিল। এবার দেখা যাক কতদিন লাগে সমস্যা মিটতে।’

সম্পর্কিত সংবাদ