নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত দু’বছরে ‘স্মার্ট পঞ্চায়েত’-এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার মোট ৩২টি পোর্টাল বা অনলাইন ব্যবস্থাপনা চালু করেছে। এর মধ্যে ১২টি সরাসরি নাগরিক পরিষেবা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন শংসাপত্র প্রদান, বিল্ডিং প্ল্যানের ছাড়পত্র, পর্যটকদের জন্য গেস্ট হাউস বুকিং, সম্পত্তি কর আদায়ের মতো একাধিক ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবস্থা চালু থাকলেও সার্বিকভাবে এর ব্যবহার সুনিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই ১ এপ্রিল থেকে এই ১২টি নাগরিক পরিষেবা শুধুমাত্র অনলাইনে প্রদান বাধ্যতামূলক করল নবান্ন। কোনও ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের ব্যতিক্রম হলে সংশ্লিষ্ট জেলা এবং আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৫ মার্চ পঞ্চায়েত সচিবের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে দপ্তর। শুক্রবার সেটি পাঠানো হয় প্রত্যেক জেলায়। তাতে সাফ বলা হয়েছে, তৃণমূল স্তর পর্যন্ত অনলাইন ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে জেলাশাসকদের। পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গত ১৩ বছরে গ্রামবাংলা উন্নয়নের নতুন শৃঙ্গে পৌঁছেছে। অনলাইন পরিষেবাতেও দেশকে পথ দেখাচ্ছে বাংলা।
পরিষেবাগুলির মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল অনলাইনে বিল্ডিং প্ল্যানের ছাড়পত্র। রাজ্যের পুর এলাকায় ১ জানুয়ারি থেকে হাতে হাতে বিল্ডিং প্ল্যানের ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ। সেই পথেই হাঁটল পঞ্চায়েত দপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে ৩২টি অনলাইন ব্যবস্থার তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে বিশেষ কিছু নির্দেশিকা। সেখানে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে, হাউস বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন শুধুমাত্র অনলাইনেই দেওয়া যাবে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সম্পত্তি কর নেওয়া হবে শুধুমাত্র অনলাইনে। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে অনলাইনে সম্পত্তি কর বাবদ ৭০ লক্ষ টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া, অভিযোগের নিষ্পত্তি, শংসাপত্র প্রদান, নিয়োগ প্রক্রিয়া, অভিযোগ জানানো এবং নিষ্পত্তি, আর্থিক লেনদেন, বাড়িতে শৌচাগারের জন্য আবেদনের মতো পরিষেবাগুলি ১ এপ্রিল থেকে অনলাইনে মিলবে। পঞ্চায়েত স্তরে শিশু সুরক্ষা কমিটি, পাবলিক হেলথ কমিটি, টেন্ডার কমিটির মতো জেলাস্তরের কমিটির তথ্যও ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে তুলে ধরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, ৩২টি অনলাইন ব্যবস্থাপনার মধ্যে ছ’টির জন্য ৩ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। তাছাড়া, সারা দেশে একযোগে ১২টি পরিষেবায় অনলাইন বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে মমতার ‘স্মার্ট পঞ্চায়েত’ মোদির ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’কে পিছনে ফেলল বলে দাবি রাজ্য প্রশাসনের।