নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বজবজ: জমির প্রকৃত মালিককে অন্ধকারে রেখে তাঁর জমি অন্যের নামে রেকর্ড করানোর এক জালিয়াতি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। মগরাহাট-১, দুই বিষ্ণুপুর, দুই বজবজ ও ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লকে মোটা টাকার বিনিময়ে চলছে একজনের জমি অন্যের নামে রেকর্ড করার জুয়াচুরি। বিষয়টি ধরা পড়তেই ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লক প্রশাসন এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সতর্কতামূলক নোটিস জারি করেছে। তবে এই প্রবণতা বেশি মগরাহাট ১ নম্বর ব্লকে।
জালিয়াতরা একাধিক ব্যক্তির জমির ভুয়ো দলিল তৈরি করে তা অন্যের নামে মিউটেশন করানোর জন্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিসে জমা দিয়েছে। বিষয়টি ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার নজরে আসামাত্র তদন্তে নেমেছে উস্তি থানা। এই চক্রের বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছে তারা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস যা জেনেছে, তা হল, মগরাহাট ১ নম্বর ব্লকের ভূমি সংস্কার অফিসের মুহুরি সংগঠনের এক প্রভাবশালী পদাধিকারী এই চক্রের নাটের গুরু। পুলিসের ধারণা, ওই অফিসের আধিকারিকদের কেউ কেউ এই চক্রে যুক্ত থাকতে পারে। শীঘ্রই মূল অভিযুক্তকে ধরা যাবে বলে নিশ্চিত ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলা।
পুলিস জেলার সুপারের অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, উস্তি থানার মগরাহাট ১ নম্বর ব্লকের শেরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাখরাবাদ মৌজার জেএল ১৪-র ক্ষেত্রে আরএস রেকর্ডে দাগ নম্বর ছিল ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬ এবং ৩৯৭। এখন পরিবর্তিত হয়ে এলআর-এ দাগ নম্বর হয়েছে ৪৩১, ৪৩২, ৪৩৩ এবং ৪৩৪। এই জমির রায়তি হলেন প্রতিবন্ধী তালাত মামুদ সর্দার। তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তাঁর কুড়ি শতক জমি অন্যের নামে মিউটেশন করানোর জন্য ভূমি সংস্কার অফিসে আবেদন করে ওই চক্রের লোকজন। তা নিয়ে শুনানির জন্য নোটিস যায় দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে। কিন্তু আসল রায়তি তা জানতেই পারেননি। তালাত মামুদের ছেলে ইমরান হোসেন এবং পড়শি জাকির হোসেন লোকমুখে জানতে পারেন এই ঘটনা। এরপর তাঁরা মগরাহাট ১ নম্বর ব্লকের বিডিও, ভূমি সংস্কার অফিস এবং উস্তি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি সামনে আসে। এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনা কুড়িটিরও বেশি বলে জানতে পেরেছে পুলিস।