শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: অ্যাপ খুলে চিটফান্ডের কায়দায় শেয়ারে বিনিয়োগের নামে চলছিল প্রতারণা। মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা সুদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কলকাতা, দুই মেদিনীপুর সহ পাঁচ জেলা থেকে তোলা হয়েছিল ১২০০ কোটি টাকা। এরপরই ঝাঁপ বন্ধ করে দেয় এসডিএফএক্স গ্লোবাল নামে ওই কোম্পানি। দুবাইতে পালিয়ে যান কোম্পানির কর্ণধার দীপঙ্কর সামন্ত। প্রতারিত আমানতকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে কোম্পানির অন্যতম প্রধান এজেন্ট বিশ্বজিত হাইতকে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিরেক্টরেট অফ ইকনমিক অফেন্সেস (ডিইও)। পলাতক দীপঙ্করের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হচ্ছে।
ডিইও সূত্রে খবর, এসডিএফএক্স গ্লোবাল নামে ওই কোম্পানি ২০২২ সালের ২৮ জুলাই ব্যবসা শুরু করে। রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজ (আরওসি) কাছে তারা জানায়, অনলাইনে শেয়ার কেনাবেচার ব্যবসা করবে। এরজন্য একটি অ্যাপ তৈরি করেছে। প্লে স্টোর থেকে এই অ্যাপ ডাউনলোড করে যে কেউ তাদের মাধ্যমে শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারে। দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, কলকাতায় একাধিক অফিস খোলা হয়। কোম্পানির কর্মপদ্ধতি বোঝানোর জন্য এবং সাধারণ মানুষের কাছে টাকা তুলতে একাধিক এজেন্ট নিয়োগ করা হয় এই পাঁচ জেলায়। বিভিন্ন সেমিনার করে মুখ্য এজেন্ট বিশ্বজিত সাধারণ মানুষকে বোঝাতেন, কোন কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করা লাভজনক। মাসে ১২ শতাংশ হারে সুদ মিলবে বলে জানাতেন তাঁরা। ইচ্ছুক বিনিয়োগকারীদের অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হতো। সেখানে কোন কোন শেয়ারে ভালো পারফর্ম করছে তাদের তালিকা থাকত। এরপর আমানতকারীদের টাকা কোম্পানির অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বলত অভিযুক্তরা। কোম্পানির মাধ্যমে আমানতকারীদের টাকা বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ হবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই কায়দায় তারা কলকাতা. দুই মেদিনীপুর, হাওড়া হুগলি থেকে ১২০০ কোটি টাকা তুলেছে। সবমিলিয়ে ২০ হাজার আমানতকারী এখানে টাকা রেখেছেন। অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের পর সুদ ও আসল ফেরত চাইলে বিনিয়োগকারীদের বলা হয়, এখন টাকা তোলা যাবে না। এমনকী আরও বিনিয়োগ না করলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না বলেও জানানো হয় এজেন্টদের তরফে। প্রাপ্য টাকা না পেয়ে মগরার এক বাসিন্দা কোম্পানির কর্ণধার দীপঙ্কর সামন্ত, মূল এজেন্ট বিশ্বজিত সহ একাধিক জনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের জুলাইতে অভিযোগ করেন স্থানীয় থানায়। মামলা শুরু হয়।
মামলার তদন্তভার নেয় ডিইও। তারা জানতে পারে, একাধিক এজেন্ট বিভিন্ন জেলায় রয়েছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, বাংলা থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পর ভিন রাজ্য থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা তুলেছে এই কোম্পানি। এরপরই দেশ ছেড়ে দুবাইতে পালিয়েছেন দীপঙ্কর সামন্ত। অভিযোগ, সেখানে বসে বিভিন্ন এজেন্টদের টাকা সরানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। আমানতকারীদের টাকা কোম্পানীর কর্ণধার ঘুরপথে বাইরে নিয়ে এসে নামে-বেনামে একাধিক সম্পত্তি ও ব্যবসায় খাটাচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। এগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। ফ্রিজ করা হয়েছে কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি।