Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

চতুর্থ স্থান দূরঅস্ত, জিডিপির নিরিখে পঞ্চম থেকে ছয়ে পিছলে গেল ভারত

সংক্ষিপ্ত মেয়াদে হলেও এক বছর আগে মাথায় উঠেছিল বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির শিরোপা। যদিও আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের (আইএমএফ) সর্বশেষ জিডিপি ভিত্তিক তথ্য বলছে, বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের স্বীকৃতিও আর নেই ভারত।

চতুর্থ স্থান দূরঅস্ত, জিডিপির নিরিখে পঞ্চম থেকে ছয়ে পিছলে গেল ভারত
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: সংক্ষিপ্ত মেয়াদে হলেও এক বছর আগে মাথায় উঠেছিল বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির শিরোপা। যদিও আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের (আইএমএফ) সর্বশেষ জিডিপি ভিত্তিক তথ্য বলছে, বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের স্বীকৃতিও আর নেই ভারত। নেমে গিয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত আইএমএফের নয়া ‘ওয়ার্ল্ড ইকনমিক আউটলুক’ অনুসারে, বর্তমানে আমেরিকা, চীন, জার্মানি, জাপান ও ব্রিটেনের পরে রয়েছে ভারত। জিডিপির নিরিখে সেরা পাঁচ অর্থনীতির তালিকা থেকে ভারতের ছিটকে যাওয়ার নেপথ্যের কারণ মূলত টাকার দরে পতন। ডলারের সাপেক্ষে টাকার সাম্প্রতিক ব্যাপক অবমূল্যায়নই আসল ‘খলনায়ক’ বলে মত অর্থনীতিবিদদের। অর্থনীতির বহরে ভারতের এই স্থানচ্যুতি ভোটের বর্তমান ময়দানে বিজেপির চক্ষুশূল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ঢাকঢোল পিটিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন ফেরি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উলটো কথা বলছে। গত বছর মে মাসে আইএমএফেরই পূর্বাভাস ছিল, ২০২৫-২৬ সালেই জাপানকে টপকে ভারত চতুর্থস্থানে উঠে আসতে পারে। সেই সময় ভারতের জিডিপি ছিল ৩.৯ লক্ষ কোটি ডলার, জাপানের ৪ লক্ষ কোটি ডলার। কিন্তু বর্তমান তথ্য বলছে চতুর্থ স্থান দূরঅস্ত, বরং পাঁচ থেকে নেমে ছয় নম্বরে চলে এসেছে ভারত। পঞ্চমে চলে এসেছে ব্রিটেন। অথচ এই ব্রিটেনকেই ২০২১ সালে পিছনে ফেলে দিয়েছিল ভারত। ফলে বর্তমান চিত্রটা বেশ করুণ।  

Advertisement

যদিও অর্থনীতিবিদদের একটা অংশ আবার মনে করছেন, ভূ-রাজনৈতিক ফ্যাক্টরের কারণে ডলারের মূল্য সাপেক্ষে ভারতের অর্থনীতি সংকুচিত দেখালেও বাস্তব চিত্রটা আলাদা। টাকার দরে পতন হলেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির দ্রুত গতি অব্যাহতই রয়েছে। তাহলে ভারতের স্থানচ্যুতি কেন? অর্থনীতিবিদদের ওই অংশের দাবি, ভারতের জিডিপির বহর যখন ডলার-মূল্যে রূপান্তরিত করা হচ্ছে তখন কলেবরে অপেক্ষাকৃত খাটো দেখাচ্ছে। কারণ সম্প্রতি মার্কিন ডলারের নিরিখে টাকার বিনিময় মূল্য উল্কার গতিতে নিম্নমুখী হয়েছে। গত এক বছরে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দর ৮৫ থেকে নামতে নামতে ৯২-এর গণ্ডি টপকে গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জ্বালানির আমদানি খরচ বেড়েছে। শেয়ার বাজার থেকে ক্রমাগত বেরিয়ে গিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ। ফলে টাকার তুলনায় ডলারের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। নয়া পদ্ধতিতে কাগজে কলমে ভারতের আর্থিক শক্তিহ্রাস হয়েছে। যদিও দ্রুত হারে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি এখনও বজায় রয়েছে। উৎপাদনের গতিও ইতিবাচক। আইএমএফের অনুমানই বলছে ৬ থেকে ৭ শতাংশ হারে আর্থিক বৃদ্ধি দেখতে চলেছে ভারত। বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে এটি সর্বোত্তম বৃদ্ধির হার। কাজেই স্থানচ্যুতি মানেই ভারতীয় অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, এটা কোনোভাবেই বোঝাচ্ছে না। মুদ্রার বিনিময় মূল্য ও ডেটা মেথডের কারণে বিশ্ব ক্রম তালিকায় প্রভাব পড়েছে মাত্র। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, ভারতের অর্থনীতি মজবুত অবস্থাতেই রয়েছে। ক্রম তালিকায় খুব দ্রুত ফের সেরা পাঁচে উঠে আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চতুর্থ স্থান পুনর্দখলের সম্ভাবনা প্রবল। যদিও তাতে চিঁড়ে ভিজছে না। কারণ, টাকার এই অবমূল্যায়ন থেকে মুক্তি কোনপথে, তার কোনো দিশা সরকারের দিক থেকে আপাতত মিলছে না।

সম্পর্কিত সংবাদ