নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে সপরিবারে দগ্ধ হলেন চন্দননগরের একটি খ্যাতনামা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক। ওই ঘটনাকে ঘিরে চন্দননগর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, খলিসানি মনসাতলার বাসিন্দা মিষ্টান্ন সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক তাঁর স্ত্রী ও দুই তরুণী কন্যাসহ অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনক ওই ঘটনাটি বুধবার সন্ধ্যার। স্থানীয়রা দ্রুত চারজনকেই উদ্ধার করে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করান। রাতে তাঁদের চারজনকেই কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, চারজনের মধ্যে দু’জনই আশঙ্কাজনক।
জানা গিয়েছে, অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক রমেশ মান্না ও তাঁর স্ত্রী সুস্মিতা মান্না, তাঁদের বড় মেয়ে পৃথা ও ছোট মেয়ে পর্ণা মান্না। তবে রাত পর্যন্ত ঠিক কী কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা নিয়ে রহস্যের সমাধান হয়নি। ঘটনার পরপরই শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে চর্চা শুরু হয়। যদিও চন্দননগর পুরসভার বিদ্যুৎবিভাগ থেকে কর্মীদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল। সেখানকার একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিটের কোনও সূত্র পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে যাওয়া নিয়েও আলোচনা শোনা গিয়েছে। এক্ষেত্রে নিকটতম প্রতিবেশীদের একাংশ দাবি করেছেন যে, তেমন কোনও বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়নি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ঘটনাস্থলের কাছেই থাকেন চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী। জখমদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর ছেলে সুমন চক্রবর্তী কলকাতায় গিয়েছেন। রামবাবু বলেন, ঠিক কী কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। আমরা চাইছি, দ্রুত জখম চারজন সুস্থ হয়ে উঠুক। তাঁদের পরিবারে কোনও সমস্যার কথা মেয়র বা প্রতিবেশী, কোনও হিসেবেই আমি কখনও শুনিনি। ভদ্রেশ্বর থানার পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মান্না পরিবারের আত্মীয়রাও কেউ বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি।
সন্ধ্যের মুখে চন্দননগরের খলিসানি মনসতলার ওই বাড়ি থেকে প্রতিবেশীরা আগুন দেখতে পান। তারপরেই বাড়ির সদস্যদের আর্ত চিৎকার শোনা যায়। স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়েই মেয়র, দমকল কর্তাদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন আয়ত্তে আনে। দমকল কর্মীদের সঙ্গে প্রতিবেশীরাও বাড়িতে ঢুকে মান্না পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির সদর দরজার সামনেই রমেশবাবুকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। জখমদের নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি আগুন ধরার কারণ নিয়ে রহস্য উন্মোচন হয়নি। প্রসঙ্গত, রমেশবাবুরা দুই ভাই। দু’জনেরই দু’টি করে চালু মিষ্টির দোকান আছে। সঙ্গে অন্যান্য একাধিক ব্যবসা। বড়ভাই রমেশ মান্না সপরিবারেই ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। তাঁর বড় মেয়ে পৃথা একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকুরির পাশাপাশি ব্যবসার কাজেও পরিবারকে সাহায্য করতেন। অগ্নিকাণ্ড ও তাতে পরিবারের সকলেরই একইসময়ে একত্রে জখম হওয়া গুচ্ছ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।