Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ফরোয়ার্ডদের গোলখরা চিন্তায় রাখছে অস্কারকে, বিমান বিভ্রাটে গোয়ায় পৌঁছোয়নি ট্রফি, হোটেল বদল ইস্ট বেঙ্গলের

খেতাবি লড়াই রবিবার। মাণ্ডভী নদীর তীরে চূড়ান্ত মহড়ায় ব্যস্ত দুই দল। রীতি মেনে শনিবার ফটোসেশনে হাজির হওয়ার কথা ইস্ট বেঙ্গল এবং এফসি গোয়ার কোচ-অধিনায়কদের।

ফরোয়ার্ডদের গোলখরা চিন্তায় রাখছে অস্কারকে, বিমান বিভ্রাটে গোয়ায় পৌঁছোয়নি ট্রফি, হোটেল বদল ইস্ট বেঙ্গলের
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:১২
Prefer us on Google

সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, মারগাও: খেতাবি লড়াই রবিবার। মাণ্ডভী নদীর তীরে চূড়ান্ত মহড়ায় ব্যস্ত দুই দল। রীতি মেনে শনিবার ফটোসেশনে হাজির হওয়ার কথা ইস্ট বেঙ্গল এবং এফসি গোয়ার কোচ-অধিনায়কদের। কিন্তু বিধি বাম। দেশজোড়া বিমান বিভ্রাটের জেরে রাজধানীর ফুটবল হাউস থেকে এখনও ট্রফিই পৌঁছয়নি গোয়ায়। জানা গিয়েছে, রবিবার অর্থাৎ ম্যাচের দিন সকালেই তা পৌঁছবে। তবে ফটোসেশন হোক বা না হোক, রবিবার রাতে ট্রফি হাতে সেলিব্রেশনের স্বপ্নে বিভোর লাল-হলুদ শিবির। তবে পথটা যে মসৃণ হবে না, তা ভালোই জানে ইস্ট বেঙ্গল থিঙ্কট্যাঙ্ক। সেমি-ফাইনালে ইস্ট বেঙ্গলের তিন গোলদাতা মহম্মদ রশিদ, কেভিন সিবলে ও সাউল ক্রেসপো! দু’জন মিডফিল্ডার ও একজন ডিফেন্ডার। আক্রমণভাগের ফুটবলারদের গোলখরা ফাইনালের আগে চিন্তায় রাখছে কোচ অস্কার ব্রুজোঁকে। জাপানি স্ট্রাইকার হিরোশি পুরো সময় খেলেও সেভাবে দাগ কাটতে ব্যর্থ। আবার আনফিট হামিদের খেলা নিয়েও সংশয় দূর হয়নি। সেমি-ফাইনালের দু’দিন আগেও পুরোদমে প্র্যাকটিস করছিলেন মরোক্কান স্ট্রাইকার। কিন্তু আচমকা চোট পেয়ে রিহ্যাবে ব্যস্ত তিনি। তবে রবিবার ফাইনালে তাঁকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট। মাথায় রাখতে হবে, শক্তির মাপকাঠিতে পাঞ্জাব এফসি এবং এফসি গোয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক। মানোলো মার্কুয়েজের দল এসিএল-টু খেলে সুপার কাপে নেমেছে। তাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিডফিল্ডাররা গোল করে জেতাবেন, এমন আশা করাটা বাড়াবাড়ি। সুপার কাপ পুনরুদ্ধার করতে হলে আক্রমণভাগকে বাড়তি দায়িত্ব নিতেই হবে।

Advertisement

পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে দাপটে জিতে ইস্ট বেঙ্গল শিবির অবশ্য আত্মবিশ্বাসে ফুটছে। তারই মধ্যে শুক্রবার হোটেল পরিবর্তন করল লাল-হলুদ ব্রিগেড। পানজিমের এক পাঁচতারা হোটেলই তাদের নতুন ঠিকানা। সেমি-ফাইনালের ক্লান্তি কাটাতে শুক্রবার প্লেয়াদের বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ। সাউল, মিগুয়েলরা রিকভারি মোডেই ছিলেন। জিমে অবশ্য হাল্কা গা ঘামিয়েছেন তাঁরা। ফাইনালে এফসি গোয়াকে মাত করতে তৈরি লাল-হলুদের কাণ্ডারিরা। মেগা ম্যাচে পাশে থাকার জন্য সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। মহম্মদ রশিদের কথায়, ‘গোল করে দলকে খেতাবি লড়াইয়ে তুলকে পেরে অভিভূত। চলতি মরশুমে দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলছি। এবার কোনওভাবেই ট্রফি হাতছাড়া করতে চাই না। সমর্থকদের কাছে আবেদন, উত্সাহ জোগাতে মাঠে আসুন। আপনাদের মুখে হাসি ফোটাতে জান লড়িয়ে দেব।’ সেমি-ফাইনালে গোল পেয়েছিলেন সাউল ক্রেসপোও। তাঁর কথায়, ‘ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে দ্বিতীয়বার সুপার কাপের ফাইনালে খেলব। টিমের প্রত্যেকের কঠোর পরিশ্রমের ফল। ট্রফি জিতলে আমরা এএফসি’র স্লটও পাব। এটা বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। মেগা-ফাইনালের জন্য আমরা তৈরি।’ সেমি-ফাইনালের আর এক গোলদাতা কেভিন সিবলেও সাউলের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, ‘ইস্ট বেঙ্গলে এটা আমার প্রথম মরশুম। সুপার কাপ জিতে স্মরণীয় করে রাখতে চাই। ফাইনালের আগে দু’দিন হাতে পাওয়ায় রিকভারি ভালো হচ্ছে। এটুকু বলতে পারি, খেতাবি লড়াইয়ে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ব না।’ তবে পাঞ্জাব এফসি’র বিরুদ্ধে লাল-কার্ড দেখায় ফাইনালে ডাগ আউটে থাকতে পারবেন না অস্কার ব্রুজোঁ। এমন মেগা ম্যাচে কোচের না থাকাটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গে এফসি গোয়ার কোচ মানোলো মার্কুয়েজকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘অস্কার দারুণ কোচ। ও কীভাবে ভাবছে, সেটা বলতে পারব না। তবে আমি সর্বদাই ডাগ-আউটে থেকে প্লেয়ারদের গাইড করতে চাই। অবশ্য ইস্ট বেঙ্গলের সাপোর্ট স্টাফরাও বেশ ভালো। ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।’
ঘরের মাঠে ফাইনাল খেলা গোয়ার কাছে বড় অ্যাডভান্টেজ। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি মাচ জিতে তারাও সুপার কাপ ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে সন্দেশ ঝিঙ্গানের মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার না থাকায় তাদের রক্ষণে ফাঁকফোকর স্পষ্ট। সেটা মিগুয়েল, বিপিনরা কাজে লাগাতে পারেন কিনা, সেটাই দেখার।

সম্পর্কিত সংবাদ