নয়াদিল্লি: ট্র্যাভেল এজেন্ট ‘ম্যাডাম এন’-এর পর পাকিস্তানের প্রাক্তন পুলিসকর্মী নাসির ধিলোঁ। পাকিস্তানের হয়ে ভারতে কারা গুপ্তচরবৃত্তি করত, তার তদন্ত করতে গিয়ে এবার উঠে এল পাকিস্তানের প্রাক্তন পুলিসকর্মীর নাম। কয়েকদিন আগে চরবৃত্তির অভিযোগে পাঞ্জাবের বাসিন্দা জসবীর সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। জ্যোতি মালহোত্রার মতোই ভ্লগিংয়ের আড়ালে তথ্য সীমান্তের ওপারে পাচার করত জসবীর। জেরায় সে জানিয়েছে, নাসির তাকে এক আইএসআই এজেন্টের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেয়। লাহোরে ওই এজেন্টের সঙ্গে জসবীরের বৈঠকের ব্যবস্থাও করে দেয় সে। তদন্তে জানা গিয়েছে, নাসির আগে পাকিস্তানে পাঞ্জাবে পুলিসের সাব ইনস্পেক্টর হিসেবে কাজ করত। কয়েক বছর আগে চাকরি ছেড়ে ভ্লগিং শুরু করে। ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালাতে সমাজ মাধ্যমকে হাতিয়ার করে সে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পাকিস্তানের হয়ে ভারতে কারা চরবৃত্তি করবে, তা ঠিক করত একটি চক্র। আর সেই চক্রের মাথা ছিল নাসির। তার সঙ্গী হিসেবে কাজ করত নৌশাবা শেহজাদ ওরফে ‘ম্যাডাম এন’। ভারতীয় ভ্লগারদের টার্গেট করার জন্য তাদের দায়িত্ব দিয়েছিল আইএসআই। কেউ জালে ফাঁসলেই পাক এজেন্টদের সঙ্গে ওই ভ্লগারদের পরিচয় করিয়ে দিত তারা। এছাড়া খালিস্তানি মতবাদ ছড়ানোর কাজও নিয়মিত করে চলেছে নাসির।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত ট্র্যাভেল ভ্লগার জ্যোতির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল নাসিরের। পাক এজেন্টদের সঙ্গে লাস্যময়ী ভ্লগারের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কাজ করেছে সে। জ্যোতির সঙ্গে একটি পডকাস্টেও অংশ নেয় সে। সূত্রের খবর, যে ভারতীয় ভ্লগাররা পাকিস্তানে ঘুরতে যেত, পাক হাইকমিশনের কর্মী দানিশের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করত নাসির ও তার সঙ্গীরা। কোনও ভ্লগার তাতে সাড়া দিলেই শুরু হতো আলাপ জমানোর পর্ব। এরপর চরবৃত্তির ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ নিয়ে ভ্লগাররা ভারতে ফিরে আসত। পরবর্তী সময়ে তাদের অতিথি হিসেবে পাক হাইকমিশনে ডেকে পাঠিয়ে অন্য কাজ দেওয়া হতো। তদন্তকারীরা মনে করছেন, নাসির ছাড়াও পাকিস্তানের একাধিক পুলিসকর্মী চরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত।
নাসিরের ইউটিউব চ্যানেল ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও তার প্রতিষ্ঠানগুলিকে টার্গেট করে ভিডিও বানায়। তবে তার প্রধান টার্গেট ছিল পাঞ্জাব পুলিস। খালিস্তানি মতবাদ ছড়াতে পাঞ্জাবের বিভিন্ন সংবেদনশীল ঘটনায় শিখ সম্প্রদায়কে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছে সে। শিখ ধর্মাবলম্বী পুলিসকর্মীদের ইউনিফর্ম ছেড়ে হিংসার পথ ধরতে উস্কে দিত নাসির। আইএসআইয়ের সঙ্গে খালিস্তানপন্থী জঙ্গি সংগঠনগুলি যে যোগাযোগ রেখে চলছে, তার প্রমাণ একাধিকবার মিলেছে। নাসিরের বক্তব্যে সেই আঁতাত ফের একবার সামনে এল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এদিকে, শনিবার মোহালির আদালত ধৃত জসবীরের পুলিস হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বৃদ্ধি করেছে। এদিন জসবীরকে আদালতে হাজির করে আরও সাতদিনের জন্য হেফাজতের আবেদন করেছিল পুলিস।