Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

২ কোটি খোয়ালেন আইআইটির প্রাক্তন অধ্যাপক, সল্টলেকে অভিযোগ দায়ের

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগ। কয়েকদিনের ট্রেডিংয়েই মিলবে উচ্চ রিটার্ন। সেই টোপ গিলে ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছিলেন সল্টলেকের এক প্রবীণ নাগরিক।

২ কোটি খোয়ালেন আইআইটির প্রাক্তন অধ্যাপক, সল্টলেকে অভিযোগ দায়ের
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগ। কয়েকদিনের ট্রেডিংয়েই মিলবে উচ্চ রিটার্ন। সেই টোপ গিলে ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছিলেন সল্টলেকের এক প্রবীণ নাগরিক। তিনি আইআইটি খড়্গপুরের প্রাক্তন অধ্যাপক। বর্তমানে হরিয়ানার একটি ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু রিটার্ন তো দূরের কথা, বিনিয়োগ করা মূলধনই তিনি ফিরে পাননি। উইথড্রল ফি, অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন ফি, রিস্ক মার্জিন ফি প্রভৃতি নানা অজুহাতে আরও টাকা আদায় করতে থাকে প্রতারকরা। অবশেষে তিনি বুঝতে পারেন, ভুল জায়গায় বিনিয়োগ করেছেন। প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন তিনি। শনিবার তিনি সল্টলেকে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড বা বিনিয়োগ প্রতারণা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ ব্যাপারে সর্বস্তরে সচেতনতা প্রচার করছে পুলিশ। তা সত্ত্বেও প্রায় দিনই কোনো না কোনো নাগরিক এই ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। উচ্চ রিটার্নের আশায় প্রবীণদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রাক্তন অধ্যাপক গত ৯ জানুয়ারি থেকে প্রতারকদের খপ্পরে পড়েন। ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ধাপে ধাপে ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। তারপর প্রতারকরা ৩ দিনের ও ৫ দিনের ভুয়ো ট্রেডিংয়ের কথা বলে। তাতে ৩০ শতাংশ হারে রির্টান দেখানো হয়। বাস্তবে তা পুরোটাই ভুয়ো। তবে তিনি আসল ভেবেই রিটার্ন সহ টাকা তোলার চেষ্টা করেন। প্রথমে ‘ফেইলড’ হয়ে যান। তাতে তিনি কিছুটা অবাক হয়ে প্রতারকদের দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করেন। তখন তারা জানায়, টাকা তোলার জম্য বিভিন্ন ধরনের ফি দিতে হবে। তখন প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। 
প্রতারকরা এই ধরণের প্রতারণার জন্য প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করে নেয়। তারপর নানা ধরনের বিনিয়োগের কথা জানানো হয়। উচ্চ রিটার্নের ভুয়ো হিসেব দেখে বিনিয়োগ শুরু করে দেন। প্রতারকরা ভুয়ো প্ল্যাটফর্ম বানায়। এমনকি, বিনিয়োগ করা অর্থে কত শতাংশ রিটার্ন মিলছে, তা দেখানোর জন্য ভুয়ো ট্রেডিং অ্যাপও বানায় তারা। সেখানে দেখানো হয়, টাকা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, ‘যে কোনো ধরনের বিনিয়োগ করার আগে ভালোভাবে খোঁজ নিতে হবে। সেই সঙ্গে রিটার্ন যদি অস্বাভাবিক হারে দেখানো হয়, তাহলে আগাম সতর্ক হতে হবে। প্রতারকরা অনেকদিন ধরে বিনিয়োগ করাতে থাকে। ফলে তারা সেই টাকা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সুযোগও পেয়ে যায়। তাই অসতর্ক হলেই বিপদ।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ