নয়াদিল্লি: দোর্দণ্ডপ্রতাপ মার্কিন ফৌজ। চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেছে আফগানিস্তানের তোরাবোরা পাহাড়। হাতের মুঠোয় ওসামা বিন লাদেন। অবশেষে মিলেছে আল কায়েদা প্রধানের হদিশ। আর কিছুক্ষণের অপেক্ষা। কিন্তু কে জানত, সেই অপেক্ষার পালা আরও দীর্ঘ হতে চলেছে। হ্যাঁ, নাগালে এসেও আমেরিকার জাল কেটে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ৯/১১ হামলার মাস্টারমাইন্ড। কিন্তু কীভাবে? লাদানের সেই বহুচর্চিত পলায়ন-বৃত্তান্ত এবার প্রকাশ্যে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র এক প্রাক্তন আধিকারিকের বয়ানে। এক সাক্ষাৎকারে জন কিরিয়াকৌ দাবি করলেন, মার্কিন সেনার চোখে ধুলো দিয়ে মহিলার ছদ্মবেশে বোরখা পরে আফগানিস্তান থেকে পালিয়েছিলেন তৎকালীন আল কায়েদা প্রধান। এই সাক্ষাৎকারেই আরও এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন প্রাক্তন সিআইএ অফিসার। তাঁর দাবি, কোটি কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তার মধ্যেমে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফকে প্রাথমিকভাবে ‘কিনে নিয়েছিল’ আমেরিকা। পুরোপুরি বশংবদ হয়ে তিনি পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিরিয়াকৌয়ের আকপট স্বীকারোক্তি, একনায়ক শাসকদের সঙ্গে কাজ করতে ভালোবাসে আমেরিকা। কারণ সেক্ষেত্রে জনমত বা সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে না।
জন কিরিয়াকৌ দীর্ঘ ১৫ বছর সিআইএ-তে ছিলেন। পাকিস্তানে সিআইএর সন্ত্রাস দমন অভিযানের প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে এই প্রাক্তন সিআইএ অফিসার বলেন, মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডারের যিনি অনুবাদক ছিলেন, তিনি যে আসলে আল কায়েদার এজেন্ট সেটা আমরা টেরই পাইনি। অনুবাদকের বেশে ওই আল কায়েদা এজেন্ট মার্কিন বাহিনীতে ঢুকে পড়েছিলেন। আমরা নিশ্চিত ছিলাম, আফগানিস্তানের তোরাবোরা পাহাড়ে ওসামা বিন লাদেন সহ আল কায়েদার শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে ফেলেছি। আমরা তাঁদের আত্মসমর্পণ করতে বলি। কিন্তু ওই অনুবাদকের মাধ্যমে তাঁরা বার্তা পাঠান, ভোর পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক। আমরা প্রথমে মহিলা ও শিশুদের এখান থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে পাঠাতে চাই। তারপর আমরা আত্মসমর্পণ করব। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা জেনারেল ফ্র্যাঙ্কসকে আল কায়েদা নেতৃত্বের এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার বিষয়ে প্রভাবিত করেছিলেন সেই অনুবাদকই। কিন্তু ভোর হওয়ার পর মার্কিন ফৌজ বুঝতে পারে, প্রতারণা হয়েছে। তোরাবোরার গুহা ফাঁকা। এরপর মার্কিন ফৌজ হন্যে হয়ে পাকিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত খোঁজ চালিয়েও খালি হাতে ফিরেছিল। অন্ধকারের সুযোগে মহিলাদের বেশে ট্রাকে চড়ে চম্পট দিয়েছিলেন আল কায়েদা প্রধান। এই ঘটনার প্রায় এক দশক পর ২০১১ সালে পাকিস্তানের আ্যাবটাবাদে মার্কিন নেভি সিলের গোপন অভিযানে মারা গিয়েছিলেন লাদেন।
লাদেন ও পারভেজ মোশারফের পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ্যে এনেছেন জন কিরিয়াকৌ। এই প্রাক্তন সিআইএ অফিসারের দাবি, যেকোনও চিরাচরিত যুদ্ধে ভারতের কাছে পাকিস্তান পরাস্ত হবে। তবে তিনি যে পরমাণু যুদ্ধের কথা বলছেন না, সেটাও উল্লেখ করতে ভোলেননি। কিরিয়াকৌয়ের দাবি, ২০০১ সালে সংসদ ভবনে জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে বলে ভেবেছিল সিআইএ।