ওয়াশিংটন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক নীতির জেরেও বিশ্বজুড়ে এখন বাণিজ্য যুদ্ধের আবহ। তার মধ্যেই মার্কিন মুলুকে পাঠরত বিদেশি পড়ুয়াদের নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন অভিবাসন নীতির মাধ্যমে আমেরিকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে বিদেশি পড়ুয়াদের। কোনও নোটিস বা ব্যাখ্যা না দিয়েই ওই পড়ুয়াদের ‘স্টুডেন্ট ভিসা’ বাতিল করে দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকাজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফেও জানানো হয়েছে, স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিআইএস)-এ বাতিল হওয়া পড়ুয়ার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই মার্কিন মুলুকে পাঠরত বিদেশি পড়ুয়াদের গতিবিধি নজরে রাখা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি জানিয়েছে, কোনও পড়ুয়াকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি প্রশাসন থেকে তাদেরও আগে থেকে বলা হচ্ছে না। বহু ক্ষেত্রেই পড়ুয়াদের ভিসা বাতিল হওয়ার পর তারা জানতে পারছে। উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত সহ বিভিন্ন দেশের পড়ুয়াদের কাছে আমেরিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বরাবরই গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। কিন্তু এরকম চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলির জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়বে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।
একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ কিছু নিয়ম ভাঙার ঘটনাতেই বিদেশি পড়ুয়াদের ভিসা বাতিলের পথে হাঁটছে প্রশাসন। সম্প্রতি মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির পাঁচ পড়ুয়ার ভিসা বাতিল করা হয়। তাঁদের মধ্যে তুরস্কের এক পড়ুয়াকে গ্রেপ্তারের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে। জানা যায়, ওই পড়ুয়া মদ্যপান করে গাড়ি চালানোয় অভিযুক্ত ছিলেন। অ্যারিজোনা, কর্নেল, টেক্সাস, কলোরাডো, নর্থ ক্যারোলিনা বা ওরিগন বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বিদেশি পড়ুয়াকেও ভিসা বাতিল করে আমেরিকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই ছোটখাটো ট্রাফিক আইন ভাঙার মতো মামলায় জড়িত। এমনকী কিছু ক্ষেত্রে আইন না ভাঙলেও আমেরিকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভারতীয় ও লেবাননের এক পড়ুয়া অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের অধীনে চাকরি করতেও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের ক্রিমিনাল রেকর্ড পরীক্ষার পর দেশে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পড়ুয়ারা যাতে এই নীতি নিয়ে মুখ খুলতে না পারে, তার জন্যও ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদি কোনও বিদেশি পড়ুয়া ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখায়, তাহলে বিদেশ নীতিতে প্রভাব পড়বে দোহাই দিয়ে ওই পড়ুয়াকে ফেরত পাঠাতে পারবে প্রশাসন।
পুরো বিষয়টি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আর্মহার্টসের চ্যান্সেলর জেভিয়ার রেয়েস। তিনি বলেন, ‘এভাবে হঠাত্ করে পড়ুয়াদের ভিসা বাতিল করে দেওয়ার প্রক্রিয়া উদ্বেগজনক ও আমাদের মূল্যবোধের পরিপন্থী। বিদেশি পড়ুয়াদের কাছে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হওয়ার পাশাপশি তাঁদেরও কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিত। এভাবে চললে আন্তর্জাতিক পড়ুয়াদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। সারা বিশ্বে গবেষকদের কাছেও আমাদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।’