বেঙ্গালুরু: আইপিএলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)-র সেই বিজয় উৎসবে শেষপর্যন্ত বিষাদের অন্ধকার নেমে আসে। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অনেকেই। সেই ঘটনার দায় পুরোপুরি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘাড়েই চাপাল কর্ণাটক সরকার। কর্ণাটক হাইকোর্টে পেশ করা রিপোর্টে সরকার আরসিবির সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেরও উল্লেখ করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে বিরাট কোহলির কথাও। রাজ্য সরকারের দাবি, আরসিবি’র বিজয়োৎসবের জন্য কোনও পুলিসের কাছে অনুমতিই চাওয়া হয়নি।
হাইকোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে সরকার দাবি করেছে, আরসিবি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ও কর্নাটকের রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা অনুষ্ঠানের জন্য পুলিসকে চিঠি দিয়েছিল। তবে তাতে পুলিসি বন্দোবস্তর কোনও আবেদন করা হয়নি। এমনকি কত ভিড় হবে, কীভাবে ভিড়কে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, নিরাপত্তার স্বার্থে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এমন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও আগে থেকে জানানো হয়নি।
জানা যাচ্ছে, আইপিএল ফাইনালের কিছুক্ষণ আগে (৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ কাব্বন পার্ক পুলিস স্টেশনে চিঠি দেয় কর্নাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ডিএনএ নেটওয়াকর্স ও আরসিবি। সেখানে জানানো হয়, আরসিবি জিতলে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় সাফল্য উদযাপন করতে চায় তারা। প্রশাসনের দাবি, এব্যাপারে পুলিসের অনুমতি চাওয়া হয়নি। এই চিঠিতে শুধু তাঁদের বিজয় অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানানো করা হয়েছিল। পাশাপাশি এই চিঠিতে নিয়ম মেনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দেওয়া হয়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, পুলিসের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও ঘটনার দিন ‘বিজয় অনুষ্ঠান’ নিয়ে একাধিক পোস্ট করা হয়। দুপুর ৩ টে ১৪ মিনিটে একটি পোস্টে ঘোষণা করা হয়, বিকেল পাঁচটায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। এমনই একটি পোস্টে বিরাট কোহলির ভিডিও-ও ছিল।
সরকারের দাবি, পুলিস মোতায়েনের আবেদনও জানায়নি আয়োজকরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনও দক্ষ কর্মী ছিল না। আয়োজকদের তরফ থেকে ঘোষণার জন্য কোনও লাউড স্পিকারও রাখা হয়নি। তা সত্ত্বেও প্রশাসনের তরফ থেকে পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কারণেই যথেষ্ট পুলিসি বন্দোবস্ত করা যায়নি। পাশাপাশি কতর্ব্যে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএল সহ মোট ৫ জনকে সাসপেন্ডের কথাও আদালতে জানানো হয়েছে। -ফাইল চিত্র