সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: নববর্ষ উপলক্ষ্যে কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর মদনমোহন মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বেরিয়ে বারান্দায় অধিষ্ঠান করবেন। তাঁকে সাজিয়ে তোলার জন্য ফুল এসেছে রানাঘাট থেকে। কোচবিহারের ব্যবসায়ী সন্দীপ সাহা তিন বছর ধরে এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। শুধুমাত্র প্রাণের ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কারণেই তিনি এই কাজ করে আসছেন। কোচবিহারে নববর্ষ মানেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মদনমোহন মন্দিরে ব্যাপক ভিড় হয়। ওই দিন হাজার হাজার মানুষ মদনমোহন মন্দিরে ভিড় জমান। অর্ডার দিয়ে আনা প্রচুর পরিমাণ ফুল দিয়ে মন্দিরের সামনের বারান্দা সাজিয়ে তোলা হয়। সকাল থেকেই মন্দিরে পুজো শুরু হয়ে যায়। এবার ভক্তদের জন্য থাকছে ভোগের ব্যবস্থা।
মদনমোহন মন্দিরের কর্মী জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, পয়লা বৈশাখে মদনমোহনকে সাজানোর জন্য রানাঘাট থেকে ফুল এসেছে। কোচবিহারের এক ব্যবসায়ী এই ফুল আনিয়ে সাজিয়ে দেন। মন্দিরের পক্ষ থেকে ভোগের ব্যবস্থা করা হবে। নববর্ষে সারাদিন ধরেই মানুষ মন্দিরে আসেন। হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয়। সেই কারণে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।
কোচবিহারের ব্যবসায়ী সন্দীপ সাহা বলেন, আমি কয়েক বছর ধরে প্রাণের ঠাকুর মদনমোহনের জন্য নববর্ষের দিন রানাঘাট থেকে ফুল আনাই। আমার এক বন্ধু সেখান থেকে সব ব্যবস্থা করে ফুল পাঠিয়ে দেন। এখানে কয়েকজন শ্রমিক ফুল সাজানোর কাজ করেন। সব কিছুই তো বাবা মদনমোহনের কৃপায়। তাই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমি এটা করে থাকি।
মদনমোহন মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, নববর্ষের দিন এতো ভিড় হয় যে তার জন্য মন্দিরের সামনের রাস্তাকে নো এন্ট্রি করার জন্য পুলিসের কাছে আবেদন করা হয়েছে। যাতে ওই দিন মন্দিরের সামনে কোনও সমস্যা না হয়। মদনমোহন মন্দিরের প্রাঙ্গণে প্রচুর পরিমাণ মরশুমী ফুলের বাগান করা হয়েছিল। সেই বাগানে এখনও সেই ফুল ছেয়ে রয়েছে।