


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাত্র সংঘর্ষ এবং তাতে একাধিক অধ্যাপকের মার খাওয়া ও হেনস্তার ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্তের জন্য সোমবার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের (আইএসআই) প্রাক্তন অধিকর্তা বিমল রায়কে চেয়ারম্যান রেখে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শ্যামল রায়, বোস ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন রেজিস্ট্রার তথা অধ্যাপিকা শম্পা দাস, যাদবপুরের সহ উপাচার্য অমিতাভ দত্ত (কো-অর্ডিনেটর) এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু হাসনাত (প্রেজেন্টিং অফিসার)। ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।
এই ঘটনার পর যাদবপুরে ঢোকার ক্ষেত্রে আইকার্ড দেখানোর বিষয়টি ফের বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে। যদিও এই নিয়ম সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কার্যকর হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া আই কার্ড না থাকলে অন্য কোনো পরিচয়পত্র দেখানো যাবে। একই সঙ্গে রেজিস্টারে লিখতে হবে, কার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেখা করতে যাচ্ছেন। তাঁর ফোন নম্বরও রেজিস্টারে লেখা বাধ্যতামূলক। দিনের বেলায়ও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়াতে পারবে না বহিরাগতরা। রাত ৮টার পর সান্ধ্য ক্লাসের ছাত্রছাত্রী ছাড়া কেউ ক্যাম্পাসে দল বেঁধে ঘোরাঘুরি করতে বা আড্ডা দিতে পারবেন না। এমনকি, ফেস্ট চললেও তা ৯টার মধ্যেই শেষ করতে হবে। ক্যাম্পাসে মদ বা মাদক সেবনের প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, রাত ৮টার পর অনুমতি ছাড়া এবং কোনো কারণ ছাড়া থেকে গেলে তাঁকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কিছুদিন আগে ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে অবস্থিত গ্রিন ভিউয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। তাই রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীদের হুমকি দেওয়া বা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য লিখিতভাবে শুক্রবারের ছাত্র সংঘর্ষ ও অধ্যাপক হেনস্তার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘মাথায় রাখতে হবে, এই ক্যাম্পাস বৌদ্ধিক স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মান এবং গঠনমূলক সমালোচনার পীঠস্থান। ক্যাম্পাসকে নিরাপদ এবং জ্ঞানচর্চার জন্য আদর্শক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সেখানে পড়ুয়ারা শুক্রবার যা করেছেন, তা কল্পনার বাইরে এবং একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ যাঁরা যাঁরা এতে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং ডব্লুটিআইয়ের অনুগামীদের সংঘর্ষে শুক্রবার ক্যাম্পাস উত্তাল হয়। তাঁদের থামাতে গিয়ে জখম হন অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিনহা এবং অধ্যাপক ললিত মাধব। রাজ্যেশ্বরবাবুর নাক এবং চোখের আঘাত বেশ গুরুতর। ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি ওই দুই সংগঠনকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে উপাচার্যের কাছে। ‘সারা বাংলা শিক্ষাবন্ধু সমিতি’র যাদবপুর ইউনিট দাবি জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবেশ ফেরাতে একটি শান্তি মিছিলের আয়োজন করুক কর্তৃপক্ষ।