


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: দু’টি মেডিক্যাল কলেজ—বারাসত ও কামারহাটির সাগর দত্ত। তিনটি মহকুমা হাসপাতাল—বিধাননগর, বনগাঁ এবং বি এন বসু। সাতটি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল—বরানগর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, বলরাম, পানিহাটি, হাবড়া ও অশোকনগর। উত্তর ২৪ পরগনার এই ১২টি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের একটি বাড়িরও অগ্নি নির্বাপণ সংক্রান্ত ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ নেই। ফায়ার অ্যালার্মও কাজ করছে না অনেক হাসপাতালে। আগুনের সঙ্গে লড়াই করবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের রয়েছে অভাব। সম্প্রতি এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যভবনকে এই তথ্য জানিয়েছেন এসব হাসপাতালের সুপাররাই।
কিছুদিন আগে ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা, ট্রমা কেয়ার প্রস্তুত রাখতে বলা হয়। সেই সঙ্গে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার রিভিউ এবং অগ্নিকাণ্ড বা যে কোনও বিপর্যয় মোকাবিলায় তারা কতটা প্রস্তুত, খতিয়ে দেখতে বলা হয় সবটাই। তখনই জানা যায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সমুদ্র সেনগুপ্ত সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘খামতি দূর করা হচ্ছে। প্রয়োজন বিশেষে স্বাস্থ্যভবনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। অগ্নি নির্বাপণের ছাড়পত্রের জন্য হাসপাতালগুলিকে নতুন করে আবেদন করতেও বলা হয়েছে।’
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, হাসপাতালগুলির অগ্নি নির্বাপণ এবং ইলেকট্রিক্যাল নিরাপত্তার অডিট করার সময় বিষয়টিকে ছ’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলি হল, এক্সিট বা বেরনোর পথ ঠিক আছে কি না, ইলেকট্রিক্যাল নিরাপত্তা, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, অগ্নিকাণ্ড চিহ্নিতকরণ ব্যবস্থা (ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম), আপদকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝবার প্রস্তুতি এবং আরও কয়েকটি সাধারণ বিষয়। এই ছ’টি ভাগের মধ্যে রয়েছে ৩৯টি বিষয়।
যেমন, ‘বেরনোর ব্যবস্থা’ বা ‘এক্সিট’ অংশে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল বেরনোর রাস্তায় কোনও বাধা নেই তো? ‘ইলেকট্রিক্যাল সেফটি’ অংশের শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়েছে, ইলেকট্রিকের তার ও কেবলগুলি অগ্নিরোধী উপকরণ দিয়ে তৈরি তো? ‘অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা’ অংশে প্রথম প্রশ্ন ছিল, আপদকালীন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রোজ পরীক্ষা করে দেখা হয় তো? ‘অগ্নিকাণ্ড চিহ্নিতকরণ ব্যবস্থা’ বিভাগের অডিটে প্রথম প্রশ্ন করা হয়েছে, ওটি, আইসিইউ, ব্যাটারি, ইউপিএস ব্যাঙ্ক, যন্ত্রপাতি রাখার জায়গা, ইলেকট্রিক্যাল প্যানেল রুমের মতো জায়গায় আগুন চিহ্নিতকরণের ব্যবস্থা ঠিকঠাক রয়েছে তো? ‘আপদকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝবার প্রস্তুতি’ শীর্ষক অংশে হাসপাতালগুলিকে প্রথম প্রশ্নই করা হয়েছিল, আগুন লাগলে বেরনোর জন্য ফায়ার ড্রিল বা মহড়া হয় তো? ‘কয়েকটি সাধারণ বিষয়’ বিভাগের অনেকগুলি প্রশ্নের অন্যতম ছিল, হাসপাতালের পর্দা, বিছানার চাদর, দেওয়াল, ছাদ সহ বিভিন্ন জায়গা ও জিনিসগুলি অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধী উপকরণ দিয়ে তৈরি তো? ৩৯টি প্রশ্নের মধ্যে একটি অত্যন্ত জরুরি প্রশ্ন ছিল, হাসপাতালের বাড়িগুলি কি অগ্নি নির্বাপণের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) বা ছাড়পত্র রয়েছে? উত্তরে ১২টি হাসপাতালই জানিয়েছে, কোনও হাসপাতাল বাড়িরই এই ছাড়পত্র নেই। ফলে আগুন লাগলে বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বা বিপর্যয়ে সরকারি হাসপাতালগুলির রোগী, বাড়ির লোক বা হাসপাতাল কর্মী-চিকিৎসকদের বাঁচাবে কে? উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।