নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত বেলেঘাটা মেইন রোডের একাধিক দরমার দোকান-গুদাম এবং ঘর। বুধবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। ১৫টি পরিবার ঘরছাড়া। এই ঘটনার জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে শিয়ালদহ-বেলেঘাটা যাওয়ার রাস্তা। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত শিয়ালদহ থেকে বেলেঘাটা এবং বিপরীতমুখী পথে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, গুদামে আগুন লেগেছিল। সেই আগুন আশপাশের দোকান এবং ঘরগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। দমকলের ১৪টি ইঞ্জিন প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিন বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ একটি গুদাম থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখেন স্থানীয়রা। তাঁরা জানিয়েছেন, দোকান ও গুদামের কর্মীরা খাওয়া-দাওয়া করে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। দরমার দোকানের পিছনে রয়েছে একাধিক টিনের ছাউনি দেওয়া ঘর। সে সময় বাসিন্দারা ঘরে ছিলেন না। হঠাৎ আগুন দেখা যায়। ঘটনাস্থলের উল্টোদিকে সেলস ট্যাক্স ভবন রয়েছে। সেখানকার কর্মীরা বলেন, মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখি। আগুন লাগার পর দমকল দেরিতে আসে বলে অভিযোগ মৌসুমী দাস, রীতা কর্মকার নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দার। তবে দমকলের দাবি, সঠিক সময়েই আগুন নেভাতে গাড়ি পৌঁছয়। প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। ফলে আগুন চোখের নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি তিনটি গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে আগুন তীব্র আকার নেয়। তিন ঘণ্টা লাগে আগুন নেভাতে। তবে বিক্ষিপ্তভাবে পকেট ফায়ার থাকায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘক্ষণ সময় লাগে দমকল কর্মীদের। দমকলের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগায় পুলিসের বিপর্যয় মোকাবিলা দল। সৌরভ দাস, অঞ্জু ঘোষ নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘কীভাবে আগুন লাগল বুঝতে পারিনি। তবে ঘরের কোনওকিছুই অবশিষ্ট নেই। পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে। কিছুই বের করতে পারিনি।’ এই ঘটনার জেরে আহত হন বেলেঘাটা থানার ওসি প্রসেনজিৎ পোদ্দার। তাঁর জুতোয় আগুন ধরে যায়। জখম হন তিনি। এন আর এস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেন চিকিৎসকরা।
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ব্যাপক হওয়ায় বেলেঘাটা মেইন রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিস। অনেক নিত্যযাত্রীদের হেঁটে শিয়ালদহ স্টেশনে যেতে হয়। শিয়ালদহ থেকে বেলেঘাটা হয়ে ইএম বাইপাস, সল্টলেক, নিউটাউনগামী বাস বিদ্যাপতি সেতু থেকে ঘুরিয়ে দেয় পুলিস। সেগুলি রাজাবাজার বা মানিকতলা হয়ে কাঁকুরগাছি, ফুলবাগান দিয়ে যাতায়াত করেছে। এই ঘটনার জেরে বিপর্যস্ত হয় শিয়ালদহ থেকে ধাপা, মাঠপুকুরগামী রাস্তা। বেলেঘাটা মেইন রোড বন্ধ থাকায় ওই রাস্তার উপর চাপ বাড়ে। ফলে যানজটের কবলে পড়তে হয় মানুষকে।