Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দোলের বিকালে বেলুড়ের চাঁদমারি ভাগাড়ে আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢাকল গোটা রাস্তা

দোলের আনন্দের মধ্যেই ধোঁয়ায় ঢেকে গেল বেলুড়ের আকাশ। চাঁদমারি ভাগাড়ে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস থেকে আচমকা আগুন ধরে যাওয়ায় উৎসবের আবহ মুহূর্তে বদলে যায় আতঙ্কে।

দোলের বিকালে বেলুড়ের চাঁদমারি ভাগাড়ে আগুন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢাকল গোটা রাস্তা
  • ৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দোলের আনন্দের মধ্যেই ধোঁয়ায় ঢেকে গেল বেলুড়ের আকাশ। চাঁদমারি ভাগাড়ে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস থেকে আচমকা আগুন ধরে যাওয়ায় উৎসবের আবহ মুহূর্তে বদলে যায় আতঙ্কে। মঙ্গলবার বিকালে ভাগাড়ের একাংশে জ্বলে ওঠে আগুন। ধোঁয়া বেরতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দমকল ও প্রশাসনকে খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বর্জ্যের স্তূপে। দমকলের তৎপরতায় পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে সামাল দেওয়া হলেও গভীর রাতে ফের দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। বুধবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে বর্জ্যের পাহাড়। কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ভেসে আসে আশপাশের জনবসতিতে, ঢেকে যায় রাস্তা, বাড়িঘর।

Advertisement

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দফায় দফায় একাধিক ইঞ্জিন মোতায়েন করে দমকল। পাম্পের মাধ্যমে লাগাতার জল ছিটিয়ে ও মাটি চাপা দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান দমকলকর্মীরা। ভাগাড়ের ভিতরে জমে থাকা গ্যাসের পকেট থেকে বারবার আগুন জ্বলে ওঠায় কাজ ব্যাহত হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে দমকলের অভিযান। তবে ততক্ষণে ঘন ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বহু বাড়ির জানালা-দরজা বন্ধ করে রাখতে হয়। অনেকেই শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, গলা ব্যথা ও অ্যালার্জির উপসর্গের অভিযোগ করেন। শিশু ও প্রবীণদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভে শামিল হন এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
বালি পুরসভার প্রশাসক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ভাগাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেসিবি মেশিন দিয়ে ভাগাড়ের বিভিন্ন স্তূপ খুঁড়ে গ্যাস নির্গমনের উৎস চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।’ তাঁর দাবি, জমে থাকা বর্জ্য থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসের কারণেই বারবার আগুনের সূত্রপাত হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে পুরসভা। প্রয়োজনে নজরদারি বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
চাঁদমারি ভাগাড়ে বালি ও বেলুড় মিলিয়ে মোট ২৭টি ওয়ার্ডের আবর্জনা জমা হয়। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পাঁচটি পঞ্চায়েতের বর্জ্যও জমা হয় এখানে। বছরের পর বছর আবর্জনা সঞ্চয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি পাহাড়ের মত স্তূপ। এর মধ্যে একটি স্তূপ বায়োমাইনিং পদ্ধতিতে সরানোর কাজ চলছে, তবে বাকি অংশে এখনও বিপুল পরিমাণ আবর্জনা জমে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বাড়লে প্রায়ই এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে ফের একই সমস্যা দেখা দেয়। ফলে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে বলে আশঙ্কা তাঁদের। বেলগাছিয়া ভাগাড় বন্ধ হওয়ার পর চাঁদমারি ভাগাড়ের উপর চাপ আরও বেড়েছে। এই অগ্নিকাণ্ড গোটা এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।  নিজস্ব চিত্রH

সম্পর্কিত সংবাদ