সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: এসআইআর আতঙ্কে সোমবার পাড়া থানার চৌতলা গ্রামের আদিবাসী বৃদ্ধ দুর্জন মাঝি (৮২) আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের পর তাঁর দেহ পাড়া এলাকায় আসতেই তৃণমূল নেতা-কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ জানান। মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে আনাড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিল শেষে বাসস্ট্যান্ডে প্রতিবাদ সভাও হয়। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলে পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়ক অবরোধ। নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের প্রতীকী কুশপুতুল দাহ করা হয়। এমনকী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআরও করা হয়েছে। এদিন কর্মসূচিতে ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি কিরীটী আচার্য, জেলা সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত, জেলা পরিষদের কো-মেন্টর সহদেব মাহাত, প্রাক্তন বিধায়ক উমাপদ বাউরি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে পুরুলিয়াতেও এসআইআরের হিয়ারিংয়ের জন্য ভোটারদের ব্লকে যেতে হচ্ছে। এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাড়া ব্লকের চৌতলা গ্রামের দুর্জনবাবু ইনিউমারেশন ফর্ম ঠিকমতোই ফিলআপ করেছিলেন। তারপরেও ভোটার কার্ডে ভুল আছে জানিয়ে তাঁকে সোমবার হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়। তারপর থেকে তিনি অবসাদে ভুগছিলেন। সোমবারই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন সকালে আদ্রা ডিভিশনের আনাড়া-রুকনি রেলপথে চৌতলার কাছে দুর্জনবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি ঘটনাস্থলে যান। পরে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব মৃতের বাড়িতে পৌঁছয়। দুপুরে পাড়া ব্লকের বিডিওকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। রাতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পাড়া থানায় এফআইআরও করা হয়। এদিন দেহ এলাকায় আসতেই নেতৃত্ব বিক্ষোভ দেখায়। কিরীটীবাবু বলেন, আদিবাসীরা ভারতের মূল নিবাসী। অথচ তাদেরও এসআইআরে ডাকা হচ্ছে। দুর্জনবাবুর স্বাধীনতার আগে জন্ম। নো-ম্যাপিং থাকায় তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে বিএলও থেকে সাধারণ মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। বিজেপি বিধায়ক নদীয়ারচাঁদ বাউরি বলেন, যে কোনও মৃত্যুকেই তৃণমূল এসআইআরের জন্য বলে দাবি করছে। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই শাসকদল সাধারণ মানুষের মনে অযথা ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে।