Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘স্বামী খুঁজে দিন’ বা ‘গাড়িটা কোথায় গেল?’ ভোটের নাকা চেকিংয়ে নাজেহাল নিরাপত্তারক্ষীরা

বারাসত শহর লাগোয়া নাকা চেকিং পয়েন্ট। মহিলা দৌড়ে এসে বললেন, ‘স্যার, স্বামী রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। এদিকেই এল।

‘স্বামী খুঁজে দিন’ বা ‘গাড়িটা কোথায় গেল?’ ভোটের নাকা চেকিংয়ে নাজেহাল নিরাপত্তারক্ষীরা
  • ৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বারাসত শহর লাগোয়া নাকা চেকিং পয়েন্ট। মহিলা দৌড়ে এসে বললেন, ‘স্যার, স্বামী রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। এদিকেই এল। ক্যামেরা দেখে একটু বলুন তো কোনদিকে গেল?’ দত্তপুকুরে নাকা চলছে। এক ভদ্রলোক এলেন। ‘স্যার মেয়ে সেই কখন পড়তে গিয়েছে। অনেক্ষণ হল ফিরছে না। এই রাস্তা দিয়েই আসে? লাল সালোয়ার পরা কাউকে চোখে পড়ল আপনাদের? ক্যামেরায় দেখবেন প্লিজ? আর একটি জায়গায় সন্ধ্যাবেলা স্বামী লুঙ্গি পরে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে বেরিয়েছেন। রাত হয়েছে, ফিরছেন না। স্ত্রী উদ্বিগ্ন। বাড়ির সামনে চলছে নাকা চেকিং। হাতের সামনে পুলিশকে পেয়ে হাজির হলেন মহিলা। ‘স্যার, ও লুঙ্গি পরে বেরিয়েছে। বেশি দূর যায়নি। একটু খুঁজে দিন না গো।’

Advertisement

ভোটের মুখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাবে কি? মানুষের আবদার সামলাতেই মাথায় হাত আইনরক্ষকদের। নাকা চেকিং চলছে রাজ্যের সর্বত্র। খবর মিলল, উত্তর ২৪ পরগনায় নাকা পয়েন্টগুলিতে নিত্য নাজেহাল হতে হচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীদের। একজন এলেন হন্তদন্ত হয়ে। একরাশ ক্ষোভ উগরে বললেন ‘একটা গাড়ি ধাক্কা মেরে পালিয়েছে। এই হল সেটার নম্বর। ধরতে পেরেছেন?’ এইসব অনুরোধ, উপরোধ, আবদারের চোটে ভোটের তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ, কাগজপত্র দেখা মাথায় উঠেছে। প্রশাসনিক কাজে বিস্তর কড়াকড়ি রয়েছে সর্বত্র। তার মাঝেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যা সামলাতে হচ্ছে বলে বিরক্ত পুলিশ।
নাকা চেকিংয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকারী, সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা উপস্থিত থাকেন। এ তল্লাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চেকিংয়ের সময় মানুষের নিতান্ত ব্যক্তিগত সমস্যা কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বারাসত-বসিরহাট-বনগাঁর ১৮ বিধানসভা এলাকায়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে হয়েছে নাকা পয়েন্ট। সকাল থেকে রাত গাড়িতে তল্লাশি চলছে। পরিচয় যাচাই হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন আধিকারিকরা। প্রতিটি পয়েন্টেই আছে সিসি ক্যামেরা। ভোটের আগে যে কোনওপ্রকার অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলার আটকাতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় প্রতি নির্বাচনে। এবারও হচ্ছে। 
নাকায় কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিক বললেন, সকলে মনে করছেন যেহেতু সিসি ক্যামেরা আছে তাই এখান থেকেই সব জানা যাবে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার পর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া, ফোন বন্ধ বা না ধরা সব কিছুর দ্রুত খোঁজ পেতে এখানে আসছে সবাই। হারানো মোবাইল, ব্যাগ বা মানিব্যাগ সব কিছুরই খোঁজ করতে চলে আসছে। একজন এসে বললেন, একটু আগে যে লোকটা দৌড়ে এল সে কোথায় গেল?’ এসব তৎক্ষণাৎ জানা সম্ভব নয়, এটা সবাইকে বুঝতে হবে। কারণ নাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার নির্দিষ্ট বিধি আছে। এই ফুটেজ নাকা পয়েন্টে থাকা পুলিশকর্মীদের হাতে নেই। তা দেখতে এসডিও বা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। জানা গিয়েছে, এই নিয়ম শোনার পর মাথায় হাত পড়ছে সবার। তা বলে ভিড় কিন্তু কম হচ্ছে না অভিযোগকারীদের।
কার্টুন: সুব্রত মাজী

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ