


গুরুগ্রাম: বিলাসবহুল ফার্মহাউস সহ বহু সম্পত্তি। প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা উপার্জন। এমন রোজগার সত্ত্বেও পরিচিতদের একটা অংশ বলতে শুরু করেছিল, মেয়ের টাকায় সংসার চলছে। এধরনের ঠেস মেনে নিতে পারছিলেন না টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব খুনে অভিযুক্ত তাঁর বাবা দীপক। এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিলেন যে, মেয়ের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। এমনকী টেনিস অ্যাকাডেমি নিয়েও অশান্তি তুঙ্গে ওঠে। অথচ মেয়ের কোনও কাজে কখনই বাধা দিতে চাননি বাবা। তিনি চাইছিলেন, টেনিস খেলেই নিজের কেরিয়ার গড়ুক মেয়ে। মেয়েকে টেনিস শেখাতে তিনি আড়াই কোটি টাকা খরচও করেছিলেন। তাই খেলা ছেড়ে মিউজিক ভিডিও বা টেনিস অ্যাকাডেমির কোচিং করিয়ে মেয়ে স্বাধীনভাবে উপার্জনের চেষ্টা নিয়ে আপত্তি তোলেন দীপক যাদব। প্রাথমিকভাবে পুলিসের সন্দেহ, গুরুগ্রামে তরুণী টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদবের (২৫) খুনের নেপথ্যে রয়েছে বাবা-মেয়ের এই সংঘাত। তিন তিনেক ধরেই মেয়ের উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন তিনি। শুক্রবার পুলিস জানিয়েছে, সম্ভাব্য সব দিকই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময় নিহত তরুণীর মা কী করছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাধিকাকে গুলি করে খুনের কথা পুলিসের কাছে ইতিমধ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন তাঁর বাবা দীপক যাদব (৪৯)। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার আদালতে তোলা হলে অভিযুক্ত দীপক যাদবের একদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
নিহত রাধিকার কাকা কুলদীপ যাদবের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিস। কুলদীপ জানিয়েছেন, গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৭-তে অভিজাত সুশান্তলোক এলাকার দোতলা বাড়ির উপরের তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন দাদা দীপক। তিনি সপরিবারে থাকেন ওই বাড়ির নীচের তলায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ আচমকা বাড়ির দোতলায় জোরালো শব্দ শুনতে পান তিনি। কুলদীপের বয়ান অনুযায়ী, ‘দৌড়ে উপরে গিয়ে দেখি, ভাইঝি রাধিকা রান্নাঘরে পড়ে রয়েছে। চারপাশ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। রিভলভার পড়ে রয়েছে ড্রয়িং রুমে। কিছুক্ষণের মধ্যে আমার ছেলে পীযূষও সেখানে চলে আসে। আমরা দু’জনে রাধিকাকে নিয়ে সেক্টর ৫৬ এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসকেরা রাধিকাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।’ কুলদীপের বয়ান অনুযায়ী, রাধিকার মা মঞ্জুদেবী ঘটনার সময় বাড়ির দোতলাতেই ছিলেন। যদিও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, গুলি চলার সময় তিনি ছিলেন একতলায়। ফলে নিহত তরুণীর মা ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন, তিনি কী করছিলেন সেটিও পুলিস খতিয়ে দেখছে। পুলিস জানিয়েছে, দীপক যাদব তাঁর পয়েন্ট ৩২ বোরের লাইসেন্সড রিভলভার থেকে পাঁচটি গুলি চালিয়েছিলেন। তার মধ্যে তিনটি লাগে মেয়ে রাধিকার শরীরে।
এরই মধ্যে ২০২৪ সালে রিলিজ হওয়া একটি মিউজিক ভিডিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটার এলভিস যাদবের অনুপ্রেরণায় রাধিকা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। ‘কারওয়ান’ নামে ওই রোম্যান্টিক মিউজিক ভিডিওতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রাধিকা। কণ্ঠশিল্পী ছিলেন ইনাম, প্রযোজক জিশান আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। পুলিস জানিয়েছে, এই মিউজিক ভিডিও নিয়ে পারিবারিক অশান্তির কারণে খুনের ঘটনা কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে।