নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নিজের মেয়ে নয়। এই সন্দেহে পাঁচ মাসের শিশুকন্যার নলি কেটে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল বাবার বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে হুগলির হরিপালের এই নৃশংস ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত বাবা শেখ কামাল হোসেনকে ১১ বছর পর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনাল চন্দননগর আদালত। বৃহস্পতিবার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক এই সাজা শোনান। মামলায় মোট ২১ জন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
২০১৩ সালে হরিপালের গোঁসা গ্রামের দম্পতি শেখ কামাল ও রেজিনা বেগমের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। কন্যা সন্তানটি তার নিজের নয় বলে প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল কামাল। অভিযোগ, সেই বছরই নভেম্বর মাসে পাশের চৈতন্যপুর গ্রামে কৌশিক নদীর বাঁধের উপর শিশুকন্যাকে নিয়ে গিয়ে ব্লেড দিয়ে তার গলার নলি কেটে খুন করে বাবা। মা রেজিনার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে হরিপাল থানার পুলিস। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে চলছিল এই মামলা। এদিন ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক জগৎজ্যোতি ভট্টাচার্য অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন। মামলার সরকারি আইনজীবী অন্নপূর্ণা চক্রবর্তী বলেন, ‘পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে খুনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। অবশেষে বিচার পেলেন নিহত শিশুকন্যার মা।’ -নিজস্ব চিত্র