Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআরে তিন সন্তানের ‘বাবা’, তালিকায় উধাও নিজের মেয়ের নাম!

দিনমজুর নিত্য দাস জানতেন, তাঁর দুই  ছেলে, এক মেয়ে। এই তিনেই পূর্ণতা! কিন্তু সরকারি খাতার পাতায় চোখ রাখতেই সেই সরল অঙ্ক ভেঙে গেল! সেখানে তিনি পাঁচ সন্তানের বাবা! আর যাঁকে তিনি প্রতিদিন নিজের চোখের সামনে দেখেন, সেই মেয়ের নামই নেই ভোটার তালিকায়! ঘটনাটি বাগদার হেলেঞ্চার।

এসআইআরে তিন সন্তানের ‘বাবা’, তালিকায় উধাও নিজের মেয়ের নাম!
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দিনমজুর নিত্য দাস জানতেন, তাঁর দুই  ছেলে, এক মেয়ে। এই তিনেই পূর্ণতা! কিন্তু সরকারি খাতার পাতায় চোখ রাখতেই সেই সরল অঙ্ক ভেঙে গেল! সেখানে তিনি পাঁচ সন্তানের বাবা! আর যাঁকে তিনি প্রতিদিন নিজের চোখের সামনে দেখেন, সেই মেয়ের নামই নেই ভোটার তালিকায়! ঘটনাটি বাগদার হেলেঞ্চার। নিত্যবাবুকে কারা ‘বাবা’ সাজাল, জানেন না পরিবারের লোকজন। বিডিয়ো অফিস সহ নানা সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেও সুরাহা হয়নি। সর্বোপরি, পরিবারে ‘নতুন’ সদস্য কারা হল, তাও জানেন না কেউ! পরিবারের আশঙ্কা, নিত্যবাবুকে ‘বাবা’ সাজিয়ে ভিন রাজ্যের কেউ ভোটার হলেন না তো? 

Advertisement

নিত্য দাসের বড়ো ছেলে বিশ্বজিৎ দাস, ছোটো ছেলে বিপ্লব দাস। দু’জনের নামই তালিকায় রয়েছে। সেই সঙ্গে তালিকায় ঢুকে পড়েছে আরও তিনটি নাম। ওই তিন যুবক নিত্য দাসকে ‘বাবা’ দেখিয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এবং এই অদ্ভুত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে নিত্যবাবুর একমাত্র মেয়ে প্রতিমা দাসের নাম বাদ যাওয়ায়। প্রতিমাই প্রথম বুঝতে পারেন, কিছু একটা গরমিল হয়েছে। আশপাশের মানুষজনের সঙ্গে নাম মেলাতে গিয়ে তাঁর চোখে পড়ে, নিজের নামটা নেই। খোঁজ নিতে ছুটে যায় বিডিও অফিসে। তখন তাঁকে জানানো হয়, তাঁর ‘পাঁচ ভাই’ আগেই তালিকায় স্থান পেয়েছে! তারা কারা, তা জানতে পারেননি প্রতিমা। অল্প লেখাপড়া জানা সামান্য দিনমজুর নিত্য দাস প্রথমে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। কিন্তু যখন ‘বিপদ’ বুঝলেন, তখন আতঙ্ক গ্রাস করে তাঁকে। নিত্যবাবুর প্রশ্ন, ‘আমার দুই ছেলে আর এক মেয়ে। আমার আর কোনো সন্তান নেই। অথচ আমি নাকি পাঁচ সন্তানের বাবা। এরা কারা, জানতে আমি বিডিয়ো অফিসে যাই। কোনো লাভ হয়নি।’ কে সেই তিন যুবক, কীভাবে এই ভুল হল, তার স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি নির্বাচনি আধিকারিকরা। তাঁর আশঙ্কা, ‘আজ নাম তুলেছে, কাল যদি বাড়ি-জমি দাবি করে, কী করব? আমার নাম ব্যবহার করে ভিন রাজ্যের কেউ ভোটার হল না তো?’ এনিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা অঞ্জু বিশ্বাস পোদ্দার বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের কাছেও আজব লাগছে। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, স্পষ্ট নয়। তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অনেকে বলছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিল তালিকাকে পরিশুদ্ধ করা, ভুয়ো নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কোথাও প্রকৃত নাম বাদ পড়ছে, আবার কোথাও অচেনা নাম ঢুকে পড়ছে। প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই।’

সম্পর্কিত সংবাদ