


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সপ্তাহের শুরুতেই দু’দিনের ঝড়-বৃষ্টি। তার আগেও একদফা বৃষ্টি। এর ফলে হুগলিতে আমের ফলন কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উঠতে শুরু করেছে সে প্রশ্ন। কৃষকদের একটি বড় অংশের দাবি, ঝড়ে বড় আকারের মুকুল বা বোল ঝরে গিয়েছে। ছোট আকারের বোলেরও ক্ষতি হয়েছে। তাতে একদফা ক্ষতি হয়েছে। তেমন ভবিষ্যতেও কিছু মুকুল নষ্ট হতে বসেছে। সবমিলিয়ে এবার ফলন কমবে। তবে হুগলির উদ্যানপালন দপ্তরের দাবি, ঝড় হয়েছে। তবে দাপট তেমন ছিল না। সে কারণে আমের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আর যে মুকুল ঝরে গিয়েছে সে হিসেব বাদ দিয়েই অধিক ফলনের হিসেব কষা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত হুগলি জেলায় এবার আমের অধিক ফলনবর্ষ। তার উপর ব্যাপক মুকুল এসেছিল গাছে। তখনই উদ্যানপালন দপ্তর জানিয়েছিল, প্রায় দু’হাজার মেট্রিক টন বাড়তি ফলন হবে। অর্থাৎ চলতি বছর ৩৭ হাজার মেট্রিক টন ফলন হওয়ার সম্ভাবনা। ২০২৫ সালে হুগলিতে কমবেশি ৩৫হাজার মেট্রিক টন ফলন হয়েছিল। কিন্তু এবার দু’দিনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলেছে বলে কৃষকদের দাবি। রাজহাটের কৃষক সত্যজিৎ নিয়োগীর ৭০ বিঘের মতো জমিতে বাগান। তিনি বলেন, ‘রবি ও সোমবারের ঝড়ে এবং তার আগে হওয়া বৃষ্টিতে আমের বোল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দু’দিন মার্বেলের আকারের বোল ঝরে পড়েছে। এছাড়া ছোট আকারের বোলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার উপর একধরনের পোকার উপদ্রব হচ্ছে। আমরা সরকারের থেকে পরামর্শ পাচ্ছি না। সবমিলিয়ে আমের ফলন অধিক ফলনবর্ষেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তবে হুগলি জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, ‘তেমন কিছু ঝড় হয়নি। বোল পড়ে গেলেও এবার ফলন ভালো হবে। কারণ আমাদের সমীক্ষায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা ধরেই ফলনের হিসেব করা হয়েছিল। কিছু বোল ঝরে গেলে বাকিগুলি টিঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবুও পরিস্থিতি আরও একবার যাচাই করা হবে। কৃষকদের সহযোগিতা করার জন্য আমরা তৎপর।’
চলতি বছর হুগলির আমবাগানগুলিতে ঝেঁপে মুকুল এসেছিল। কুয়াশার দাপট না থাকলে মুকুল ফলে পরিণত হয়। তা হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছিল। উদ্যানপালন দপ্তরও বাড়তি ফলনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। মার্চের প্রথম সপ্তাহের পর গাছ ভরে গিয়েছিল মুকুলে। কিন্তু আচমকা ঝড় ও বৃষ্টিতে পরিস্থিতি গিয়েছে বদলে। নিজস্ব চিত্র