সংবাদদাতা, কান্দি: বোরো ধান চাষে তেমন লাভ হয় না। তাই এই ধান কেটে বিক্রি নয়, সারাবছর খাওয়ার জন্য চাল হিসেবে মজুত রাখেন চাষিরা। কান্দি মহকুমায় বোরো ধান চাষে বহুবছর ধরেই এমন রীতি। মহকুমায় ধীরে ধীরে আরও যন্ত্রনির্ভর হচ্ছে কৃষিকাজ। চিরাচরিত কাস্তের বদলে যন্ত্রের সাহায্যে ধান কাটায় চাষিদের ঝোঁক বেড়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে কান্দি মহকুমায় সবচেয়ে বেশি বোরো ধানের চাষ হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মহকুমার হিজলে প্রায় ১০হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। সম্প্রতি সেই ধান কাটার পর্ব শুরু হয়েছে।
বেশিরভাগ চাষি মিনিকেট জাতীয় ধানের চাষ করেছেন। এর প্রধান কারণ, চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ধান বাজারে বিক্রি না করে বাড়িতে সারাবছরের খাবার হিসেবে মজুত রাখতে চাইছেন। কান্দি ব্লকের হিজল কৃষি সমবায় সমিতির সম্পাদক আশারুল শেখ বলেন, বোরো চাষ করে তেমন লাভ হয় বলে মনে হয় না। চাষিরা এই ধান বিক্রি না করে বাড়িতে চাল করে রাখেন। যাতে চাষি পরিবার সারাবছর নিজেদের জমির চালে ভাত খেতে পারে। এই ট্রাডিশন বহু পুরনো।
হিজলের নতুনগ্রামের প্রবীণ চাষি ফুলবাবু শেখ বলেন, এলাকার বেশিরভাগ চাষি বোরো ধান বাজারে বিক্রি না করে বাড়িতে ভালো চাল তৈরি করে রাখেন। শুধু যে চাষিরা বেশি জমিতে চাষ করেছেন, তাঁরা অবশ্যই বাজারে বিক্রি করছেন।
কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ গৌরব চট্টোপাধ্যায় বলেন, কান্দি মহকুমাজুড়েই এই নিয়ম রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে অনেক পরিবার এসময় চাষিদের থেকে চাল কিনে বাড়িতে মজুত করে রাখে।
এবছর বোরো ধান কাটার জন্য মাঠে কাস্তে হাতে খেতমজুরদের খুব কম দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কম্বাইন হারভেস্টর যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জমির খড় পাওয়া না গেলেও যন্ত্র ব্যবহার করে চাষিদের বেশি লাভ হচ্ছে। ভরতপুর-১ ব্লকের ভোলতা গ্রামের চাষি পবনকুমার মণ্ডল বলেন, এক বিঘা জমিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলে প্রায় ৪৮০০টাকা খরচ হয়। যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটলে বড়জোর ৩২০০ টাকা খরচ হবে। সেজন্য কৃষিক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে।