


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ৮ মার্চের বিয়ে ঘিরে ডোমজুড়ে যখন সাজো সাজো রব, তখনই অনিশ্চয়তার কালো মেঘ সারথি মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে। দক্ষিণ ঝাঁপড়দহের বাসিন্দা বছর ৩৩-এর সারথির ১ মার্চ দুবাই থেকে উড়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে একের পর এক উড়ান বাতিল হওয়ায় ৪ মার্চ পেরিয়েও দেশে ফেরা হয়নি তাঁর। দূরদেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর পৌঁছোতেই উদ্বেগে দিন কাটছে পরিবারের।
সারথির ভাই বিশ্বপতি মুখোপাধ্যায়, পেশায় নিবড়া ট্রাফিক গার্ডের হোমগার্ড। বুধবার তিনি জানান, মাঝেমধ্যে ফোনে কথা হলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাঁর কথায়, ‘বিয়ের তারিখ পিছোতে পারে। কিন্তু এখন আমাদের একটাই চাওয়া—দাদা সুস্থভাবে বাড়ি ফিরুক।’
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে সারথি রয়েছেন, সেখানকার আকাশে প্রায় নিয়মিত বোমাবর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে বাড়িতে জানিয়েছিলেন তিনি। কবে ফেরার সুযোগ মিলবে, তা স্পষ্ট নয়। পরিবারের দাবি, ইরান ও ইজরায়েল থেকে বহু ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ দেখা গেলেও দুবাই থেকে যাত্রী ফেরানোর ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি নেই। ফলে উৎকণ্ঠা আরো বাড়ছে। কোভিড পরবর্তী সময়ে দুবাইয়ের একটি গয়নার সংস্থায় কাজে যোগ দেন সারথি। ২০২৩ সালে কয়েক মাসের জন্য বাড়ি এলেও পরে ফের কর্মস্থলে ফিরে যান। তিনবছর পর নিজের বিয়ের জন্য ঘরে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এখন দক্ষিণ ঝাঁপড়দহে দিন গোনা ছাড়া উপায় নেই সারথির বাবা-মা ও ভাইয়ের। আনন্দের আয়োজন থমকে রেখে পরিবারের প্রার্থনা—যুদ্ধ থামুক, নিরাপদে ফিরুক তাঁদের ছেলে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সৌদি আরবে আটকে পড়েছেন ডোমজুড়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ মিদ্দে ও তাঁর স্ত্রী চাঁদসুলতানা মিদ্দে। ২০০৩ সাল থেকে দামাম শহরের একটি তেল সংস্থায় কর্মরত ইউসুফ। পরিবার সূত্রে খবর, মিসাইল হামলার আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁদের। প্রতিদিন ফোনে কথা হলেও উৎকণ্ঠা কাটছে না ডোমজুড়ের বাড়িতে। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় আপাতত দেশে ফেরার উপায় নেই বলে পরিবারকে জানিয়েছেন চাঁদসুলতানা। প্রতিবছর নিয়ম করে বাড়ি এলেও এবার যুদ্ধের ছায়ায় পরিবার প্রার্থনায় দিন গুনছে।