নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: চলতি বর্ষার আগেই শহরজুড়ে নিকাশি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হয়েছিল হাওড়া পুরসভা। মার্চ মাস থেকে শুরু হয় বিভিন্ন ওয়ার্ডে নতুন পাম্প হাউস, নিকাশিনালা তৈরির কাজ। যাবতীয় আয়োজন সত্ত্বেও সোমবার থেকে শুরু হওয়া নাগাড়ে বৃষ্টিতে হাওড়া শহরে ফিরে এল জল-যন্ত্রণার চেনা ছবি। উত্তর হাওড়া থেকে শিবপুর, দক্ষিণ হাওড়া— সর্বত্রই মঙ্গলবার দিনভর জমা জলের ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে শহরবাসীকে।
উত্তর হাওড়ার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড সোমবার রাত থেকেই কার্যত জলের তলায়। নস্করপাড়া রোড, হনুমান কুলি লাইন, নবীন ঘোষ লেন, শশীভূষণ মুখার্জি লেন, লালবিহারী বোস লেন, মহীনাথ পোড়েল লেন, কামিনী স্কুল লেনের বহু বাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। অরবিন্দ রোড, বেনারস রোড, সালকিয়া, বেলুড়ের হপ্তা বাজার এলাকায় কার্যত একই পরিস্থিতি ছিল। পাশাপাশি শান্তিনগর, বেলগাছিয়ার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডেও কয়েক মাস আগের জমা জলের দুর্ভোগ ফের ফিরে এসেছে। তবে জমা জলে সবথেকে বেশি সমস্যা হয়েছে মধ্য হাওড়ার কাসুন্দিয়া লেন, ইছাপুর রোড, ডুমুরজলা এইচআইটি আবাসন, শৈলেন মান্না সরণির একাংশে। প্রায় কোমর সমান জল পেরিয়ে দিনভর যাতায়াত করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বন্ধ রাখতে হয়েছে বহু দোকানপাট। পঞ্চাননতলা রোডেও দীর্ঘক্ষণ জল জমেছিল বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, দক্ষিণ হাওড়ার বি গার্ডেন সংলগ্ন এলাকা, বাকসাড়া ভিলেজ রোড, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে দিনভর জল থইথই অবস্থা ছিল। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সাল পর্যন্ত হাওড়া শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বর্ষার সময় নিকাশি নিয়ে যে সমস্যা ছিল, সেটা কয়েকগুণ বেড়ে যায় গত বছরে। সেকারণেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে নতুন ড্রেন, স্পেশাল পাইপ লাইন, পাম্প হাউস, অক্সিডেশন পন্ড তৈরির উদ্যোগ নেয় হাওড়া পুরসভা। সব মিলিয়ে বরাদ্দ হয় প্রায় ৯ কোটি টাকা। তা দিয়ে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড ও উত্তর হাওড়ার তিনটি জায়গায় তিনটি নতুন পাম্প হাউস, নতুন রাস্তার মোড় পর্যন্ত স্পেশাল পাইপলাইন, বেনারস রোডে নতুন স্যুয়ারেজ লাইন, একাধিক নিকাশিনালা সংস্কারের কাজ হয়েছে। কিন্তু একদিনের বৃষ্টিই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, সব টাকাই কার্যত জলে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে বর্ষার বাকি মরশুমে কী হবে? হাওড়া পুরসভার দাবি, এদিন সকাল থেকেই গঙ্গায় জোয়ার থাকার কারণে জমা জল নামতে দেরি হয়েছে। পাশাপাশি, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে দু’টি পাম্প হাউসের কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই এই দু’টি চালু হয়ে গেলে শৈলেন মান্না সরণি, ইছাপুর সংলগ্ন এলাকায় জমা জলের সমস্যা আর থাকবে না। আপাতত সেখানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি পাম্প চালানো হচ্ছে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘পঞ্চাননতলা, বেলগাছিয়া, টিকিয়াপাড়ায় দুপুরের পর জল নেমে গিয়েছে। বছরভর নিকাশিনালা সংস্কারের কাজ চলেছে। এই বর্ষায় আগের মতো দীর্ঘক্ষণ ধরে জল জমার সমস্যা থাকবে না।’-নিজস্ব চিত্র