তিরুপতি মন্দিরে এবার নকল শাল, ৫৪ কোটির অনিয়মের অভিযোগ, সিল্কের বদলে পলিয়েস্টার! তদন্তের নির্দেশ
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তিরুপতি: লাড্ডুতে ভেজাল ঘি কাণ্ড থেকে পরকামণিতে চুরির অভিযোগ। এসবের রেশ কাটার আগেই নয়া বিতর্ক বিশ্বের ধনীতম হিন্দু তীর্থস্থানে। এবার অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালা তিরুপতি মন্দিরে নকল শাল সরবরাহের অভিযোগ ঘিরে তুলকালাম। মূলত ‘বেদাশীর্বচনম’ রীতি পালনে লাগে এই শালগুলি। মোটা অনুদান দেওয়া ভক্তদের সেগুলি উপহারও দেওয়া হয়। অভিযোগ, খাঁটি সিল্কের নাম করে নিম্নমানের পলিয়েস্টারে তৈরি শাল সরবরাহ করা হয়েছে গত এক দশক ধরে। নিম্নমানের এই শালের দাম খুব বেশি হলে ৩৫০ টাকা। যদিও সেগুলির জন্য ১ হাজার ৩০০ টাকা করে বিল করা হয়েছে। অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (টিটিডি) ট্রাস্টের তরফে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর (এসিবি) হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

মন্দিরের অভ্যন্তরীণ ভিজিলেন্স তদন্তে অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী খাঁটি তুঁত রেশম বা সিল্কের শাল সরবরাহ করার কথা। অভিযোগ, সেই শর্ত লঙ্ঘন করে ২০১৫ সাল থেকে সম্পূর্ণভাবে পলিয়েস্টারে তৈরি শালের জোগান দিয়ে গিয়েছে বরাত পাওয়া সংস্থা। টিটিডি বোর্ডের চেয়ারম্যান বি আর নাইডুর নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ তদন্তে অবশেষে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে। নাইডু বলেন, সরবরাহ হওয়া শালের মোট আর্থিক মূল্য ৫০ কোটি টাকারও বেশি। আমরা এসিবি-কে তদন্ত করতে বলেছি।
গুণমান যাচাইয়ের জন্য শালগুলির নমুনা পাঠানো হয়েছিল দু’টি ল্যাবরেটরিতে। তার মধ্যে একটি পরীক্ষাগার আবার সেন্ট্রাল সিল্ক বোর্ডের (সিএসবি) অধীনস্ত। দু’টি ল্যাব রিপোর্টেই দেখা যায়, রেশম নয়, শালগুলি পলিয়েস্টোরে তৈরি। মন্দির ট্রাস্টের এক ভিজিলেন্স অফিসার জানিয়েছেন, বিশুদ্ধতার প্রমাণ হিসেবে শালগুলিতে সিল্ক হলগ্রাম থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ছিলই না। শালগুলি সরবরাহের বরাত ছিল একটি সংস্থা ও তাদের সহযোগীদের হাতে। অনিয়ম ধরা পড়ায় মন্দির স্ট্রাস্টের তরফে সেই সংস্থার সব বরাত বাতিল করা হয়েছে। এবিষয়ে রাজ্যের এসিবি-কে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে বলা হয়েছে।