নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাকিস্তানের বুকে গড়ে ওঠা একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। তিন বাহিনীর প্রত্যাঘাতে বেসামাল অবস্থা পাকিস্তানের। এই অবস্থায় ভুয়ো খবরকেই ঢাল বানিয়ে মুখ বাঁচাতে চাইছে তারা। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ছাড়াও সরকারের মন্ত্রী-সান্ত্রীরাও এধরনের একের পর এক বিভ্রান্তিকর পোস্ট করতে শুরু করেন। কোনওটিতে ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছে; কোনওটিতে পাকিস্তান দাবি করেছে, অপারেশন সিন্দুরে অংশগ্রহণকারী সেনা-জওয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। ধ্বংস করা হয়েছে বায়ুসেনা ঘাঁটি। যদিও প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো জানিয়েছে, সমস্ত দাবিই মিথ্যা। পুরনো ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের ভুয়ো খবরের ফাঁদে পা দিয়ে বিতর্কে জড়াল চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসও। তাদের সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি।
অপারেশন সিন্দুরের কিছুক্ষণ পরেই পাকিস্তানের তরফে একটি ভাঙা ভারতীয় যুদ্ধবিমানের ছবি শেয়ার করা হয়। ইসলামাবাদের দাবি, বাহাওয়ালপুরের কাছে ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছে পাক সেনা। ওই ছবিও ব্যাপক ভাইরালও হয়। যদিও পিআইবি স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০২১ সালের পাঞ্জাবের মোগাতে একটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছিল। সেই ছবিই মঙ্গলবার রাতের বলে চালাচ্ছে পাকিস্তান। আরও একটি ফেক নিউজের পর্দাফাঁস করেছে নয়াদিল্লি। সেটি শেয়ার করেছিলেন পাকিস্তানের মন্ত্রী আতাউল্লা তারার। তাঁর দাবি, ছোড়া পোস্টের কাছে সাদা পতাকা হাতে আত্মসমর্পণ করেছে ভারতীয় সেনা। এই দাবিও খারিজ করে দিয়েছে পিআইবি। সরকারি এই সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানের মন্ত্রী নিজের দেশের জনগণকেই বোকা বানাচ্ছেন। সেইসঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্যও প্রচার করে চলেছেন। ভুয়ো খবর ছড়ানো ব্যক্তিদের তালিকায় নাম রয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফেরও। তাঁর দাবি, অপারেশন সিন্দুরের পর একাধিক ভারতীয় সেনা-জওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও এর সপক্ষে কোনও তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেননি তিনি। মঙ্গলবার রাতেই পাকিস্তানের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ও নেতা-মন্ত্রীদের তরফে জানানো হয়, শ্রীনগর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি এয়ারফোর্স। এটিও ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়। জানা গিয়েছে, এসংক্রান্ত ছবি, ভিডিওর সঙ্গে কাশ্মীরের কোনও যোগই নেই। গত বছর শুরুর দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনওয়ার ভিডিওটিকেই শ্রীনগর বায়ুসেনা ঘাঁটির বলে দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের এই ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে নির্ভর করে বিতর্কে জড়াল চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মাটিতে ভেঙে পড়া ভারতীয় যুদ্ধবিমানের পুরনো ছবি দিয়ে খবর প্রকাশ করে চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা গ্লোবাল টাইমস। তাতেই ফুঁসে ওঠে ভারতীয় দূতাবাস। এক্স হ্যান্ডলে তারা লিখেছে, ‘প্রিয় গ্লোবাল টাইমস, সংবাদের নামে কোনও ভুয়ো-বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশনের আগে তার সত্যতা খতিয়ে দেখুন। সূত্র থেকে পাওয়া খবর ভালোভাবে যাচাই করে নিন।একাধিক পাকিস্তানপন্থী সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে অপারেশন সিন্দুর নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। সেইসমস্ত তথ্য যাচাই না করে কোনও সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করলে, তা সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও দায়িত্ববান খবর পরিবেশনের পরিপন্থী।